সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীরা তাদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সরব হয়েছেন। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তারা তাদের ৫ দফা দাবি তুলে ধরেন। তাদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে ভেরিফিকেশনের নামে তালিকা থেকে বাদ পড়া প্রার্থীদের নথিপত্র স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পুনরায় যাচাই করা এবং প্রত্যেক প্রার্থীকে আত্মপক্ষ সমর্থনের আইনানুগ সুযোগ প্রদান করা। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের বিশেষ অনুদান দেবে সরকার, আবেদন যেভাবে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই প্রশাসনিক জটিলতায় অনেক যোগ্য প্রার্থীকে চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১ হাজার ২০০ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও এখন পর্যন্ত নিয়োগপত্র হাতে পাননি। দীর্ঘ আট মাস ধরে অপেক্ষা করতে থাকা এই প্রার্থীদের মধ্যে অনেকেই পূর্বের চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন বা অন্য কোনো কর্মসংস্থানের সুযোগ হাতছাড়া করেছেন। অনেকেরই সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা শেষ হওয়ার পথে, যা তাদের জন্য চরম মানসিক ও আর্থিক সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, প্রায় ১ হাজার ২০০ জনের নিয়োগপত্র ইস্যু করা হয়নি। তাঁদের কেউ আগের চাকরি ছেড়েছেন, কেউ অন্য চাকরিতে যোগ দেননি। আবার অনেকের বয়স সরকারি চাকরিতে আবেদনের সীমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে বা সেই সুযোগ শেষ হয়েছে।’। ৫১তম বিশেষ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি, পদ ৫০০০, সাধারণ বিসিএস কবে। চাকরি খোঁজার সময় মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব, যা করবেন, যা করবেন না।
প্রার্থীরা দ্রুত নিয়োগপত্র প্রদানের আহ্বান জানিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কী ধরনের প্রশাসনিক ভুলের কারণে এত বিপুলসংখ্যক সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা জনসমক্ষে প্রকাশ করার দাবি জানিয়েছেন তারা। এ ছাড়া আটকে থাকা নিয়োগপত্র ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
প্রার্থীরা স্পষ্ট করেছেন যে, তারা কোনো নিয়মবহির্ভূত বা অযোগ্য প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন না। তাদের মূল লক্ষ্য হলো প্রশাসনিক ভুলের কারণে যেন কোনো নিরপরাধ ও যোগ্য ব্যক্তি নিয়োগবঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করা। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয়, যেখানে মোট ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নির্বাচিত করা হয়েছিল।
নিয়োগপ্রক্রিয়ায় বিলম্বের কারণ হিসেবে একাধিকবার পুলিশ ভেরিফিকেশন পরিচালনা এবং দেশে ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক পটপরিবর্তনকে দায়ী করা হচ্ছে। যদিও স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ডোপ টেস্টের কাজ দ্রুত সম্পন্ন হয়েছিল, কিন্তু মাঠপর্যায়ের তথ্য যাচাই করতে গিয়ে দীর্ঘ সময় ব্যয় হয়েছে।
শিক্ষাসংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমানে দেশের ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তীব্র শিক্ষক–সংকট চলছে, যার ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচিত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন শিক্ষক তাদের নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগ দিতে পারলে বিদ্যালয়ের চলমান শিক্ষক-সংকট অনেকটাই নিরসন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র: প্রথম আলো








