গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগে ওপেনএআই থেকে তিন গবেষক বরখাস্ত

প্রকাশ:

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে সরব আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই কঠোর পদক্ষেপ নিল চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই। সংবেদনশীল তথ্যের অপব্যবহার এবং কোম্পানির অভ্যন্তরীণ নীতিমালা ভঙ্গের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটি তাদের তিন গবেষককে বরখাস্ত করেছে। সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক এআই প্রতিষ্ঠানটি বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও আনুষ্ঠানিকভাবে বরখাস্ত হওয়া কর্মীদের নাম প্রকাশ করেনি। তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বরখাস্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন জেসমিন ওয়াং, তোমেক কোরবাক ও মিকিতা বালেসনি। এআই কি মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। এআই নিয়ন্ত্রণের বাইরে, অস্ত্র বানাতে ব্যবহারের চেষ্টা, সামনে বিপদ কতটা।

ওপেনএআই এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে যে ওই কর্মীরা কোম্পানির নির্ধারিত প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে সংবেদনশীল তথ্যের ব্যবহার করেছেন। এই কর্মকাণ্ডের ফলে প্রতিষ্ঠানের নীতিমালার যেমন লঙ্ঘন হয়েছে, তেমনি আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে, যা তাদের কাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এএফপির পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে বরখাস্ত হওয়া ব্যক্তিরা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এক বিবৃতিতে ওপেনএআই এএফপিকে বলেছে, ‘আমরা তিনজনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছি। তবে এই তিনজন এএফপির মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেননি।

বরখাস্ত হওয়ার আগে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এই গবেষকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ এআই নিরাপত্তা ও এর ঝুঁকি নিয়ে সরব ছিলেন। বিশেষ করে ১০ সেপ্টেম্বর মিকিতা বালেসনি এক পোস্টে দাবি করেছিলেন যে, এআইয়ের কারণে মানবজাতির বিলুপ্তির আশঙ্কা ১০ শতাংশের বেশি। এর পরের দিন ১১ সেপ্টেম্বর তোমেক কোরবাক ওপেনএআইয়ের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানিয়ে লিখেছিলেন, প্রতিষ্ঠানটির অনেক সিদ্ধান্তের সঙ্গে তিনি একমত নন, তবে এই বিষয়ে কথা বলার সুযোগ পেয়ে তিনি সন্তুষ্ট। মিকিতা বালেসনি গত ১০ সেপ্টেম্বর এক পোস্টে লিখেছিলেন, ‘আমি ওপেনএআইয়ে কাজ করি এবং আমার মনে হয়, এআইয়ের কারণে সব মানুষ মারা যাওয়ার আশঙ্কা ১০ শতাংশের বেশি। তবে আমি খুবই খুশি যে এ কথা বলার সুযোগ আমাকে দেওয়া হচ্ছে।’।

এআই প্রযুক্তির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতিযোগিতামূলক দৌড় নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি ঘটনা সামনে এসেছে। এর আগে গত মাসে অ্যানথ্রপিক নামক এআই প্রতিষ্ঠান থেকে পদত্যাগ করেন ২৭ বছর বয়সী গবেষক জ্যাকব কক্সন। যাওয়ার সময় তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে, শক্তিশালী মডেল তৈরির প্রতিযোগিতায় নেমে ওপেনএআইসহ শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলো মানবজাতির জীবন নিয়ে জুয়া খেলছে। এদিকে, নতুন মডেল ‘অ্যাস্ট্রা ৬.১’ প্রকাশের সিদ্ধান্তও বাতিল করেছে ওপেনএআই। প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় দেখা গেছে, মডেলটি এখনো পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য নয় এবং এতে ব্যবহারকারীর নির্দেশনা অমান্য করার প্রবণতা রয়েছে।

শেয়ার করুন