সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হুতি বিদ্রোহীদের হামলার জেরে সৃষ্ট উত্তেজনায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদিগামী অর্ধশতাধিক ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত মোট ৫১টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে, যার মধ্যে ১২টি সরাসরি ফ্লাইট এবং ৩৯টি ট্রানজিট ফ্লাইট রয়েছে। এই বাতিলের ফলে অন্তত ৫ হাজার ৪১৮ জন যাত্রী গন্তব্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়ে তীব্র ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। বাতিল হওয়া সরাসরি ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৪টি, ইউএস-বাংলার ২টি, সৌদি এয়ারলাইন্সের ৩টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের ৩টি ফ্লাইট রয়েছে। এছাড়া ট্রানজিট ফ্লাইটের তালিকায় রয়েছে ইন্ডিগোর ১৬টি, এমিরেটসের ৯টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৫টি, ফ্লাই দুবাইয়ের ৫টি, সালাম এয়ারের ৩টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের ১টি ফ্লাইট। বেবিচক সূত্র জানিয়েছে, বাতিল হওয়া ডিরেক্ট ফ্লাইটের মধ্যে বাংলাদেশ বিমানের ৪, ইউএস বাংলার ২, সৌদি এয়ারলাইন্সের ৩ ও রিয়াদ এয়ারওয়েজের ৩। আর ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের ১৬, সালাম এয়ারের ৩, এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ৯, ইজিপ্ট এয়ারের ১, কাতার এয়ারওয়েজের ৫ ও ফ্লাই দুবাইয়ের ৫টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় এয়ারলাইন্সগুলো সাময়িক ফ্লাইট স্থগিত করেছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, রিয়াদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ১৭ই অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ রুটের সব ফ্লাইট স্থগিত থাকবে। পরবর্তী যাত্রার সময়সূচি যথাযথ সময়ে জানানো হবে। অন্যদিকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, ২১শে অক্টোবর পর্যন্ত তাদের বিএস-৩৮১ ও বিএস-৩৮২ ফ্লাইটের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। উভয় এয়ারলাইন্সই যাত্রীদের বিমানবন্দরে না গিয়ে বিক্রয় কেন্দ্র বা ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছে। এর আগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-দাম্মামগামী ফ্লাইট বিজি-৩৪৯ দোহা বিমানবন্দরে অবতরণ করতে বাধ্য হয়েছিল। দাম্মাম বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং তিন ঘণ্টা পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফ্লাইটটি গন্তব্যে পৌঁছায়। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে ১২ই অক্টোবর বিজি-৩৪৯ ফ্লাইটের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স ২১শে অক্টোবর পর্যন্ত আর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১৭ তারিখ পর্যন্ত রিয়াদগামী সব ধরনের ফ্লাইট বাতিল করেছে। কবে যেতে পারবেন, কোথায় থাকবেন কিছুই জানেন না।
বিমানবন্দরে আটকা পড়া যাত্রীদের মধ্যে শ্রমিক শ্রেণির সংখ্যাই বেশি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আসলাম মিয়া জানান, তিন মাসের ছুটি শেষে কাজে ফেরার সময় এই বিপদে পড়েছেন তিনি। একই অবস্থা মৌলভীবাজারের রিপন মিয়ার, যিনি জরুরি ভিত্তিতে সৌদি যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে এলেও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। লক্ষ্মীপুরের মঈনুদ্দিন ইউএস-বাংলার ফ্লাইটের টিকিট নিয়ে ১২টায় বিমানবন্দরে গিয়ে ফ্লাইট বাতিলের কথা জানতে পারেন। শ্রমিক যাত্রীদের অনেকেরই ঢাকায় অতিরিক্ত সময় থাকার মতো আর্থিক সংগতি নেই, ফলে হোটেল খরচ বা টিকেট রিফান্ড নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। কোনো কোনো যাত্রী বাধ্য হয়ে বাড়িতে ফিরে যাচ্ছেন, কেউ আবার হোটেলের আশায় বসে আছেন। মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে যাওয়া বেশির ভাগই যাত্রীই শ্রমিক। তাদের কাছে পর্যাপ্ত টাকা নেই যা দিয়ে ঢাকায় অবস্থান করবেন। কারণ এয়ারলাইন্সগুলো যদি টিকিট রিফান্ড না করে তবে অনেকেই বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়বেন। আসলাম মিয়া বলেন, আগে কখনো এরকম সমস্যায় পড়িনি।
হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের টার্মিনাল-২ এলাকায় এমন শত শত যাত্রীকে নির্ঘুম রাত কাটাতে দেখা গেছে। ট্রাভেল এজেন্সিগুলোও সঠিক কোনো তথ্য দিতে পারছে না বলে যাত্রীদের অভিযোগ। তবে সৌদি আরবে আটকে পড়া যাত্রীদের সহায়তায় ভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে সৌদিয়া এয়ারলাইন্স। মঙ্গলবার থেকে তারা বিকল্প পথে যাত্রীদের গন্তব্যে নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর যাত্রীরা সড়কপথে তাদের নিজ নিজ কর্মস্থলে যাওয়ার সুযোগ পাবেন বলে জানা গেছে। যাত্রীদের সংখ্যা পর্যায়ক্রমে আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আশঙ্কা করছে।
সূত্র: মানবজমিন








