হরমুজ প্রণালিতে দুই জাহাজ ডুবি, বাড়ছে হামলার আতঙ্ক

প্রকাশ:

হরমুজ প্রণালির কৌশলগত জলসীমায় ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ ক্ষেপণাস্ত্র বা প্রক্ষেপণের আঘাতে ডুবে গেছে। বুধবার সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এই ভয়াবহ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষিতে গত ১০ দিনে এই নৌপথকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। ইরানের দাবি, তাদের বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ এবং গত মাসের কঠোর নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়াই এই সামরিক সক্রিয়তা। গত ১০ দিনে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের আশপাশে হামলার ঘটনা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। হামলার পরপরই অন্য নাবিকদের সরিয়ে নেয়া হয়।

সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী ‘জিএফএস প্রাইড’ নামের একটি কনটেইনারবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় হামলার শিকার হয়। ২ হাজার ৮২৪ টিইইউ ধারণক্ষমতার জাহাজটিতে আঘাতের পর আগুন ধরে যায় এবং একপর্যায়ে সেটি ডুবে যায়। সিঙ্গাপুরের সামুদ্রিক ও বন্দর কর্তৃপক্ষ (এমপিএ) জানিয়েছে, জাহাজটির ২১ জন নাবিককেই নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। মঙ্গলবার এই দুর্ঘটনা ঘটলেও, হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে সিঙ্গাপুরের কর্তৃপক্ষ। তারা একে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন ও বিনা উসকানিতে চালানো আক্রমণ বলে মন্তব্য করেছে। তবে জাহাজটির ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান জিএফএস শিপ ম্যানেজমেন্ট এফজেডই-এর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

একই সময়ের ব্যবধানে অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী ‘কেপ দাও’ নামের একটি শুকনো পণ্যবাহী জাহাজও প্রণালির কাছাকাছি তলিয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ সেপ্টেম্বর জাহাজটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং সেই আঘাতের কয়েক সপ্তাহ পরই এটি পুরোপুরি ডুবে যায়। ওই হামলায় জাহাজটির এক নাবিক নিহত হওয়ার তথ্যও নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান পিওনিজ শিপম্যানেজমেন্ট এফজেডই-এর সাথে এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

আইএমও-এর জাহাজ দুর্ঘটনাসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জিএফএস প্রাইড ও কেপ দাও হলো যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় জাহাজ যেগুলো এই সংঘাতের ফলে ডুবে গেল। সামুদ্রিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ‘মারিস্কস’ বুধবার সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, চলমান এই হুমকি শুধু তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং কনটেইনার ও শুকনো পণ্যবাহী জাহাজগুলোও সমানভাবে ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর একের পর এক হামলার ঘটনা পুরো অঞ্চলের নৌ-নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য এই জলপথটি আগের মতো নিরাপদ থাকছে না বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

শেয়ার করুন