দিল্লিতে ককক্রোচ জনতা পার্টির কর্মসূচি ঘিরে কড়া নিরাপত্তা বলয়

প্রকাশ:

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি জুড়ে ককক্রোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নির্ধারিত তেরঙা ওড়াও কর্মসূচিকে ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্ক এবং সংলগ্ন রাজীব চক মেট্রো স্টেশনে অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু নতুন সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। সার্বিক জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে ১৬৩ ধারা বলবৎ করা হয়েছে।

নিরাপত্তা প্রস্তুতি ও বাস মোতায়েন

বাণিজ্যিক এলাকা পালিকা বাজারের আশেপাশে পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সংসদ মার্গ ও টলস্টয় রোডের সংযোগস্থলগুলোতে প্রায় ষোলোটি বাস অবস্থান করতে দেখা যায়। এর আগে গত সপ্তাহেও একই দলের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ প্রদর্শিত হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছিল।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি

  • ভোটার তালিকা বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে সিজেপি।
  • চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে দলটির শীর্ষ নেতা সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রানকাকে আটকের প্রতিবাদে নতুন করে আন্দোলনের ঘোষণা দেয় সংগঠনটি।
  • শুক্রবারের এই পূর্বঘোষিত কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক নামকরণ করা হয়েছে ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’।
  • প্রাথমিকভাবে যন্তর মন্তরে জমায়েতের পরিকল্পনা থাকলেও পরে কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্ককে সমাবেশের নতুন স্থান হিসেবে বেছে নেওয়া হয়।

প্রশাসনের কঠোর বার্তা ও নিষেধাজ্ঞা

নতুন এই কর্মসূচিকে প্রতিহত করতে বৃহস্পতিবার সাধারণ নাগরিকদের সেন্ট্রাল পার্ক চত্বরে সমবেত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ। পাশাপাশি নয়াদিল্লি পৌর পরিষদ (এনডিএমসি) এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে, প্রশাসনিক অনিবার্য কারণে শুক্রবার ও শনিবার সাধারণের জন্য সেন্ট্রাল পার্কের দরজা বন্ধ থাকবে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দিল্লি পুলিশের জনসংযোগ কর্মকর্তা (ডিসিপি-প্রো) নেহা যাদব গণমাধ্যমে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানান যে, সামগ্রিক শান্তি রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের জীবন ও সরকারি-বেসরকারি সম্পদ সুরক্ষায় কনট প্লেস ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। তবে শর্ত সাপেক্ষে নির্দিষ্ট সংখ্যক ব্যক্তিকে নির্ধারিত স্থানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের অনুমতি দেওয়া হতে পারে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নয়াদিল্লি ও আশপাশের এলাকায় মোতায়েন হয়েছে ২৫ হাজারের বেশি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য।

শেয়ার করুন