মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতকে টপকালো বাংলাদেশ

প্রকাশ:

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সর্বশেষ প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ ডেটাবেজ অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মাথাপিছু জিডিপির হিসাবে ভারতকে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ। গত ১৩ অক্টোবর প্রকাশিত এই প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে বর্তমান মার্কিন ডলারের মূল্যে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮৮৬ ডলারে, যেখানে ভারতের ক্ষেত্রে তা ২ হাজার ৭৫০ ডলার। অর্থাৎ এই মুহূর্তে দুই দেশের মাথাপিছু আয়ের ব্যবধান ১৩৬ ডলার। আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বাংলাদেশ এই শ্রেষ্ঠত্ব আগামী দুই অর্থবছর পর্যন্ত বজায় রাখতে সক্ষম হতে পারে। তবে ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ভারত আবারও শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করবে এবং ২০৩০-৩১ অর্থবছর নাগাদ এই ব্যবধান আরও বৃদ্ধি পাবে। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে বাংলাদেশেকে পেছনে ফেলেছিল ভারত। ইসরাইলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য চলাকালে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের ওয়াকআউট। মক্কায় মসজিদে ‘অনৈতিক কাজের’ দায়ে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর। ভারতের তরুণদের আন্দোলন রূপ নিচ্ছে সরকার পতনের এক দফায়।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও দীর্ঘমেয়াদী প্রক্ষেপণ

অর্থনীতির সামগ্রিক আকার ভারতের চেয়ে প্রায় আট গুণ ছোট হওয়া সত্ত্বেও মাথাপিছু আয়ের এই দৌড়ে ২০২৭-২৮ অর্থবছর পর্যন্ত ভারতের চেয়ে এগিয়ে থাকবে বাংলাদেশ। আইএমএফের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ভারতের মাথাপিছু জিডিপি ৩ হাজার ৬৬২ ডলারে উন্নীত হবে, যা বাংলাদেশের ৩ হাজার ৩৩৪ ডলারকে ছাড়িয়ে যাবে। ২০৩০-৩১ অর্থবছর নাগাদ ভারতের মাথাপিছু জিডিপি ৪ হাজার ৩৮৯ ডলারে পৌঁছাবে, যেখানে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা ৩ হাজার ৬৮০ ডলার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে ২০১৮ সাল থেকে টানা সাত বছর বাংলাদেশ ভারতের চেয়ে বেশি মাথাপিছু জিডিপি বজায় রাখতে পেরেছিল। ২০৩০-৩১ অর্থবছর নাগাদ এই ব্যবধান আরও বেড়ে প্রায় ৭০৯ ডলারে পৌঁছাবে; তখন ভারতের মাথাপিছু জিডিপি হবে ৪ হাজার ৩৮৯ ডলার এবং বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা দাঁড়াবে ৩ হাজার ৬৮০ ডলারে। দেশটির সামগ্রিক জিডিপির আকার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৪ দশমিক ০৬ ট্রিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২০৩০-৩১ অর্থবছরে ৬ দশমিক ৭৪ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে; যেখানে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৭ দশমিক ০২ শতাংশ এবং ২০৩০-৩১ অর্থবছরে ৬ দশমিক ৮১ শতাংশ বার্ষিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত। যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে বন্দুক হামলায় প্রাণ গেল ৪ জনের, পথচারীর গুলিতে নিহত হামলাকারী। হুতিদের হামলায় বিপাকে ওমরাহযাত্রীরা, রিয়াদে নিহত বাংলাদেশি ইমাম।

ক্রয়ক্ষমতার সমতা (পিপিপি) ও জীবনযাত্রার চিত্র

একটি দেশের মোট অর্থনৈতিক উৎপাদনকে জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করে মাথাপিছু জিডিপি হিসাব করা হয়, যা জনগণের প্রকৃত আয় বণ্টনের নিখুঁত চিত্র প্রদান করে না। ক্রয়ক্ষমতার সমতা বা পারচেজিং পাওয়ার প্যারিটি (পিপিপি) ভিত্তিতে দেখলে এই চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। পিপিপি ভিত্তিতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারতের মাথাপিছু জিডিপি ধরা হয়েছে ১২ হাজার ৯৯৮ ডলার, বিপরীতে বাংলাদেশের ১০ হাজার ৮৮৪ ডলার। অর্থাৎ এই সূচকে ভারত বাংলাদেশ থেকে ১৯ দশমিক ৪ শতাংশ এগিয়ে রয়েছে। ১৯৯৪ সাল থেকে এই অবস্থানে থাকা ভারত ২০৩১ সাল পর্যন্ত ব্যবধান ৪৫ শতাংশে উন্নীত করবে বলে আইএমএফের পর্যবেক্ষণ রয়েছে। সাধারণত জনপ্রতি গড় অর্থনৈতিক উৎপাদন পরিমাপে এটি ব্যবহৃত হলেও এটি জনগণের আয় বণ্টন বা জীবনযাত্রার প্রকৃত ব্যয়ের নিখুঁত চিত্র তুলে ধরে না। তবে জীবনযাত্রার ব্যয়ের পার্থক্য বিবেচনায় নিলে চিত্রটি সম্পূর্ণ বদলে যায়। পণ্য ও সেবামূল্যের পার্থক্য সমন্বয় করে এই সূচক নির্ধারিত হয়। পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপন বন্ধে ইসরাইলকে চীনের আহ্বান। শর্ত না মানলে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে, ইরানের হুঁশিয়ারি।

দক্ষিণ এশীয় অর্থনীতির তুলনামূলক বিশ্লেষণ

  • চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট জিডিপির আকার ৫০৬ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০৩০-৩১ অর্থবছর নাগাদ ৬৭৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হতে পারে।
  • ভারত ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৭ দশমিক ০২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের সম্ভাবনা বজায় রেখে দক্ষিণ এশিয়ায় দ্রুততম অর্থনীতির দেশ হিসেবে থাকবে।
  • বাংলাদেশের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ২ দশমিক ২১ শতাংশে নেমে যাওয়ার পর ২০৩০-৩১ অর্থবছরে ২ দশমিক ৯৭ শতাংশে কিছুটা পুনরুদ্ধার হতে পারে।
  • ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৯ হাজার ৫০৭ ডলার নিয়ে মালদ্বীপ দক্ষিণ এশিয়ায় মাথাপিছু জিডিপিতে শীর্ষে রয়েছে।
  • শ্রীলঙ্কা ও ভুটানের মাথাপিছু জিডিপি যথাক্রমে ৫,০৬২ ডলার এবং ৪,৯৩৩ ডলার।
  • তালিকায় পাকিস্তানের মাথাপিছু জিডিপি ১,৮৩৬ ডলার এবং নেপালের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ১,৫৪০ ডলার প্রক্ষেপণ করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশ ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হওয়ার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য স্থির করলেও, আইএমএফের বর্তমান অনুমান এই গন্তব্যের চেয়ে বেশ কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। সামগ্রিক বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপের মুখে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য মাথাপিছু আয়ের এই প্রক্ষেপণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আঞ্চলিক রাজনীতি ও অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষায় ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার এই প্রতিযোগিতা আগামী কয়েক বছর বিশ্ব অর্থনীতিবিদদের নজর কাড়বে বলে প্রতীয়মান হয়। সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির হারের তুলনায় মাথাপিছু জিডিপির এই পরিসংখ্যান উন্নয়নশীল অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আইনজীবী দাবি করলেও বার পরীক্ষায় পাস করেননি ট্রাম্পের প্রেস সচিব। প্রস্রাবভর্তি বোতলে ভরা বাড়ি, পরিবারের ৮ জনকে হত্যা করলেন বাবা।

শেয়ার করুন