ঢাকা টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ব্যাটিং বিপর্যয়ের পর শেষ সেশনে বোলিং তোপে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চেপে ধরে স্বস্তি ফিরে পেয়েছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার দিন শেষে সফরকারীরা ৪ উইকেটে ১৩৪ রান তুলেছে। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ২৭২ রানের জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এখনও ১৩৮ রানে পিছিয়ে রয়েছে।
ম্যাচের প্রথম সেশনে সাদমান ইসলাম সেঞ্চুরি করলেও বাংলাদেশের ইনিংস খুব একটা লম্বা হয়নি। ৩ উইকেটে ২১৩ রান নিয়ে দিন শুরু করা বাংলাদেশ মাত্র ৫৯ রান যোগ করতেই শেষ ৭ উইকেট হারিয়ে ফেলে। ৩১ ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ারে নিজের তৃতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া সাদমান শেষ পর্যন্ত ১১ চারে ১০৫ রানে আউট হন। আগের দিন রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে ফেরা তাওহীদ হৃদয় এদিন কোনো রান যোগ না করেই বিশপের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন। আগের দিন ৯৯ রানে অপরাজিত ছিলেন সাদমান ইসলাম। আগের সেঞ্চুরিটি এসেছিল ১৭ ইনিংস আগে, ২০২৫ সালের এপ্রিলে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সেই সেঞ্চুরিটি করেছিলেন তিনি। ২২০ বলে সেঞ্চুরি করেছেন সাদমান। তবে গত দিনের ৪২ রানের সঙ্গে এক রানও যোগ করতে পারেনিনি হৃদয়। সেঞ্চুরির পর আর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি সাদমান। সাদমানের আউট হওয়ার পর ব্যাটিংয়ে নামেন গতকাল রিটায়ার্ড হার্ট হওয়া তাওহীদ হৃদয়। ওয়ারিক্যানের ২৫ ম্যাচের ক্যারিয়ারে এটি তৃতীয় ৫ উইকেট।
বাংলাদেশের লোয়ার অর্ডারে লিটন দাসের লড়াই ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো জুটি গড়ে ওঠেনি।
লিটন ৩৪ রানে অপরাজিত থাকলেও মেহেদী হাসান মিরাজ বিদায় নেন বিশপের বলে। গত দিন ১০ রান নিয়ে দিন শেষ করা লিটন আজ ৩৪ রান করে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন। ষষ্ঠ উইকেটে মেহেদী হাসান মিরাজ এবং লিটন দাস ৩২ রানের জুটি গড়েন।
এরপর ১৯ রানের ব্যবধানে শেষ ৪ উইকেট হারিয়ে দ্রুত অলআউট হয় বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনার জোমেল ওয়ারিক্যান দুর্দান্ত বোলিং করে ক্যারিয়ারের তৃতীয়বারের মতো ৫ উইকেট শিকার করেন। গতদিন ২ উইকেট নেয়া এই বোলার আজ দলের বাকি ৩ উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে দ্রুত থামিয়ে দেন। বাংলাদেশকে দ্রত অলআউট করে দিয়ে ব্যাটিংয়েও শুরুটা ভালো ছিল ক্যারিবীয়দের।
বোলিংয়ে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ শুরুটা বেশ ভালোভাবেই করেছিল। জন ক্যাম্পবেলের ফিফটিতে ভর করে চা বিরতির আগ পর্যন্ত সফরকারীরা ১ উইকেটে ৮৯ রান সংগ্রহ করে ফেলে। তবে চা বিরতির আগে বৃষ্টির কারণে খেলা ঘণ্টাখানেক বন্ধ থাকায় ম্যাচে নাটকীয় মোড় নেয়। বিরতি থেকে ফিরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটাররা খেই হারিয়ে ফেলেন। তাকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেছেন অভিষিক্ত বিশপ।
বিরতির পরের সেশনে মাত্র ৮ রানের ব্যবধানে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারিয়ে বসে ক্যারিবীয়রা। মিরাজের ঘূর্ণিতে স্লিপে নাজমুল হোসেনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৫৪ রানে ফেরেন ক্যাম্পবেল। এরপর এক ওভারে ২ উইকেট শিকার করে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান তাইজুল ইসলাম। ৩৬তম ওভারে কাভেম হজ সিলি পয়েন্টে মুমিনুল হকের হাতে ধরা পড়ার পর পঞ্চম বলে আমির জাঙ্গুও তানজিদের ক্যাচে আউট হন। তবে শুরুর সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেনি ক্যারিবীয়রা। আর সেই বিরতিই বাংলাদেশকে মোমেন্টাম এনে দেয়। তাইজুলের বলে স্লগ সুইপ খেলতে গিয়ে তানজিদের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন জাঙ্গু।
দ্রুত ৩ উইকেট হারিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিপদে পড়লেও দিনের শেষভাগে ত্যাগনারায়ন চন্দরপল এবং জাস্টিন গ্রিভস আর কোনো বিপদ হতে দেননি। চন্দরপল ৪৩ রানে অপরাজিত আছেন এবং তার সঙ্গী গ্রিভস ১৫ রান নিয়ে ব্যাট করছেন। শুক্রবার তৃতীয় দিনের খেলার ওপর নির্ভর করবে ম্যাচের ভাগ্য। দ্রুত ৩ উইকেট চলে যাওয়ায়া উইন্ডিজের ব্যাটিং ধসের একটা আশঙ্কা তৈরি হলেও দিনের শেষদিকে আর কোনো বিপদ আসতে দেননি ত্যাগনারায়ন চন্দরপল এবং জাস্টিন গ্রিভস।
সূত্র: দৈনিক আমার দেশ








