গণহত্যায় জড়িত থাকা সত্ত্বেও যারা অনুশোচনা করেনি এবং জনঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে বর্তমানে দিল্লিতে আশ্রয় নিয়েছে, তাদের আর কখনো বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফিরে আসার সুযোগ দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির আল জামিয়াতুল ইসলাম বাবুনগর মাদ্রাসার বার্ষিক মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির আল জামিয়াতুল ইসলাম বাবুনগর মাদ্রাসার বার্ষিক মাহফিলে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য বা আদর্শিক ভিন্নতা থাকতেই পারে, কিন্তু একটি বিষয়ে সবাই একমত যে, যারা এদেশের সাধারণ মানুষকে হত্যা করেছে, গণহত্যা চালিয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে আলেম-উলামাদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে, তাদের রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই। তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে যেমন ২৩ বছর সময় লেগেছে, তেমনি দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী, ইসলামবিদ্বেষী ও আলেমবিদ্বেষী শাসন থেকে মুক্ত হতেও বড় ধরনের ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। এ আন্দোলনে আলেম-ওলামারা রক্ত দিয়েছেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ শহীদ হয়েছেন। এছাড়া বিগত ১৬-১৭ বছরে প্রায় ৩ হাজার মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে তিনি নিজেও একজন ছিলেন। এছাড়া প্রায় ৭ হাজার মানুষ নির্যাতনের শিকার এবং লাখ লাখ মানুষ হামলা-মামলার মুখে পড়েছেন। শাপলা চত্বরের ঘটনাসহ দীর্ঘদিনের নিপীড়নের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, এত রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে দেশ স্বৈরাচারের হাত থেকে মুক্ত হয়েছে। প্রায় ৭ হাজার মানুষ বিভিন্নভাবে হত্যার শিকার ও নির্যাতিত হয়েছেন। শাপলা চত্বরে কত মানুষ শহীদ হয়েছেন, এখনো তাদের সবার নাম ও কবরের ঠিকানা আমরা জানি না। রাব্বুল আলামিন আমার হায়াত রেখেছেন।
রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের আমলে বাদ দেওয়া মহান আল্লাহর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস পুনঃস্থাপন করা হবে। সংবিধানের প্রস্তাবনা ও রাষ্ট্র পরিচালনায় এই মূলনীতি পুনরায় যুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে যে বিসমিল্লাহ যুক্ত করেছিলেন, সেই আদর্শ ধারণ করেই একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। আপনাদের দোয়া ও আল্লাহর রহমতে আজ বেঁচে আছি। ইসলামী মূল্যবোধের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, আমরা ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাস করি। সংবিধানে বিসমিল্লাহ সংযোজন এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী আদর্শের রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছি। এ দেশের সব জনগোষ্ঠীকে নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চাই। স্বাধীনতার আগে ও পরে বিভ্রান্তিমূলক রাজনীতির মাধ্যমে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন।
তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের ছাত্র-জনতার প্রত্যাশা ও দীর্ঘ আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রণীত ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর। ধর্মের নাম ব্যবহার করে রাজনৈতিক বিভেদ সৃষ্টির প্রচেষ্টার সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সমালোচনা গঠনমূলক হতে হবে, তবে দেশের মানুষের স্বার্থের বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো অসহযোগিতা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, তারা দেশের মানুষের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করছেন।
মাহফিলে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকন, সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, সরওয়ার আলমগীর এবং হুম্মাম কাদের চৌধুরীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: যুগান্তর








