দুর্গাপূজা ২০২৬ উপলক্ষে সাম্প্রতিক প্রধান ঘটনাবলি
- জনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সা দেশের স্বার্থে ব্যয় করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
- জিবুতি উপকূলে নৌকাডুবি, ১০৯ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু
- রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফলভাবে পরমাণু বিক্রিয়া সম্পন্ন
- আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের জন্য ন্যাশনাল ব্যাংকের আবেদন গ্রহণ শুরু
- দুর্গাপূজায় পুলিশ পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে: আইজিপি
শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ পুলিশ ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। পূজা শুরুর আগের সময় থেকে শুরু করে পূজা চলাকালীন এবং প্রতিমা বিসর্জন ও পরবর্তী সময় পর্যন্ত তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহাল থাকবে। পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বিপিএম রোববার (১১ অক্টোবর) পুলিশ সদর দপ্তরে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক এক সভায় সভাপতিত্বকালে এই তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, এবারের পূজা দেশের প্রায় ৩৩ হাজার মণ্ডপে উদযাপিত হচ্ছে। রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের হল অব প্রাইডে শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত সভায় সভাপতিত্বকালে তিনি এসব কথা বলেন। উল্লেখ্য, এ বছর প্রায় ৩৩ হাজার পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে।
আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশের পাশাপাশি সোয়াট, ক্রাইম রেসপন্স টিম (সিআরটি), কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) এবং বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সার্বক্ষণিকভাবে প্রস্তুত থাকবে। দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের পোশাকে ও সাদা পোশাকে মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি, পুলিশ সদর দপ্তরসহ প্রতিটি ইউনিটে সার্বক্ষণিক মনিটরিং সেল চালু থাকবে যাতে পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা যায়।
সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে আইজিপি বলেন, কোনো মহল যাতে গুজব ছড়িয়ে বা বিভ্রান্তিকর ছবি পোস্ট করে সাম্প্রদায়িক পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। এ ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের। এছাড়া জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে বিট পুলিশিং ও কমিউনিটি পুলিশিংয়ের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। সভায় জানানো হয়, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারে, সে জন্য পুলিশ সচেষ্ট রয়েছে।
পূজা উদযাপন কমিটির নেতাদের উদ্দেশে আইজিপি বলেন, প্রতিটি মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখা, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন করা জরুরি। লোডশেডিংয়ের সময় বিকল্প হিসেবে স্ট্যান্ডবাই জেনারেটর প্রস্তুত রাখতে হবে। যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় সেবা ৯৯৯ অথবা স্থানীয় থানায় যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের এই সভায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ, অতিরিক্ত আইজি পদমর্যাদার বিভিন্ন ইউনিটের প্রধান, রেঞ্জ ডিআইজি এবং জেলার পুলিশ সুপাররা উপস্থিত ছিলেন। ভার্চুয়ালিও মাঠপর্যায়ের অনেক কর্মকর্তা সভায় যুক্ত হন। সভায় হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন মজুমদার, পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা এবং হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অংশগ্রহণকারী নেতারা সরকারের গৃহীত নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং পুলিশ প্রশাসনকে তাদের উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। সভায় অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেন, এসআরইউর অতিরিক্ত আইজি মো. রেজাউল করিম, ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ, নৌ পুলিশের অতিরিক্ত আইজি মো. রেজাউল করিম, এসআরবির মহাপরিচালক (অতিরিক্ত আইজি) মো. আহসান হাবীব পলাশ, ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজি জি। চন্দ্র দাস, ঢাকা মহানগর উত্তর কৃষক দল পূজা ফ্রন্টের যুগ্ম আহ্বায়ক অলোক বসু, রমনা কালী মন্দিরের সদস্য সচিব শ্রী মিঠুন কুমার দাস, রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনের ম্যানেজার স্বামী দেবধ্যানানন্দ, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র দেবনাথ ও সাধারণ। বিপ্লব কুমার পালসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় স্থানীয় জনগণের সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে এবং পূজামণ্ডপগুলোতে নিয়মিত পরিদর্শন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। সব মিলিয়ে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবারও দুর্গাপূজা নিরাপদ ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন আইজিপি। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় বিভিন্ন ধর্মের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখা এবং নিয়মিত পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের জন্যও পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: Probash Khabor








