নোয়াখালী সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের পূর্ব দুর্গানগর গ্রামে কামরুল ইসলাম ওরফে কামাল হোসেন (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাতে জীবননাশের ঘটনা ঘটেছে। রোববার দিবাগত রাত ১১টার দিকে মোহাম্মদীয়া নূরানী মাদরাসার মাঠে এ নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। নিহত ব্যক্তি সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বর ইউনিয়নের খলিলুর রহমানের ছেলে। পুলিশ জানায়, বর্তমানে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। রোববার দিবাগত রাত ১১টার দিকে সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব দুর্গানগর গ্রামের মোহাম্মদিয়া নূরানী মাদরাসার মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সুধারাম মডেল থানার পুলিশ জানায়, ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে নিহতের সাবেক স্ত্রী তানিয়া (৪০) ও শাশুড়ি করফুলের নেছাকে (৫৮) আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং পলাতক অভিযুক্ত আকাশকে (২০) ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সুধারাম মডেল থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, অভিযুক্তরা কামালের পেটের বাম পাশে, পিঠ, মাথা, হাত ও উরুতে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন, যার ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জুয়া খেলার আসক্তি নিয়ে কামাল ও তানিয়ার মধ্যে কলহ চলছিল। এর জেরে প্রায় পাঁচ-ছয় বছর আগেই তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়। তবে বিচ্ছেদের পরও কামাল মাঝেমধ্যে মেয়ের সাথে দেখা করার জন্য সাবেক শ্বশুরবাড়িতে আসতেন। সম্প্রতি শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে বাড়িতে ঢুকতে বাধা দিলে তিনি মেয়ের সঙ্গে দেখা করার আশায় মোহাম্মদীয়া নূরানী মাদরাসার মাঠে খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন শুরু করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার মাদরাসার মাঠে তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে কামাল তার সাবেক শ্বশুর আমির হোসেনকে মারধর করেন। এই ঘটনার জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরে আসেন শ্যালক আকাশ। আকাশ, তানিয়া ও করফুলের নেছা মিলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ঘুমন্ত কামালের ওপর হামলা চালায়। সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সুধারাম মডেল থানার ওসি (তদন্ত) তুষ্ট লাল। এ সংক্রান্ত একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট থানা কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: দৈনিক আমার দেশ








