পারস্য উপসাগরে ভূপাতিত ইরানি যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ তিন পাইলটের বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ইরানের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাইলটদের ভাগ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিতে কাতারকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। ইরান এ বিষয়ে কাতারের সামরিক ও সরকারি বাহিনীর সহযোগিতা পাওয়ার কথা স্বীকার করলেও, তেহরানের ভাষ্যমতে, কাতার বারবার দাবি করেছে যে তাদের কাছে এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য নেই। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেন, পাইলটদের পরিস্থিতি নিয়ে ইরান নিয়মিত খোঁজখবর রাখছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২ মার্চ। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানবিরোধী অভিযানের পর কাতারভিত্তিক মার্কিন আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিতে আক্রমণের উদ্দেশ্যে শিরাজ থেকে দুটি সু-২৪ যুদ্ধবিমান যাত্রা করে। ইরানের দাবি, লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পর ফেরার পথে পারস্য উপসাগরে বিমান দুটিকে লক্ষ্য করে ভূপাতিত করা হয়। প্রতিটি বিমানে দুজন করে মোট চারজন পাইলট ছিলেন। এর মধ্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ কাজেমির দেহাবশেষ উদ্ধার করে ইরানের কাছে হস্তান্তর করে কাতার। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হয়ে শিরাজে তাকে সমাহিত করা হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর কাতারে মার্কিন পরিচালিত আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিতে অভিযান চালাতে শিরাজের ঘাঁটি থেকে দুটি সু-২৪ যুদ্ধবিমান ওঠে।
চলতি বছরের আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে ইরান প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে দাবি করে যে, বাকি তিন পাইলট বর্তমানে কাতারি বাহিনীর জিম্মায় জীবিত অবস্থায় আছেন। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের কর্মকর্তা সাইয়্যেদ মোহাম্মদ বাঘেরজাদেহ রেড ক্রসের কাছে পাঠানো চিঠিতে পাইলটদের নাম জাভাদ সালেহি, আবদুলমাজিদ দাশতিয়ান এবং ওমরান বেহরাভেশিয়ান হিসেবে উল্লেখ করেন।
তবে ইরানের এই দাবি বরাবরই নাকচ করে আসছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি জানান, ভূপাতিত পাইলটদের সন্ধানে কাতার উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছিল এবং উদ্ধারকৃত একজনের দেহাবশেষ ইরানের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে। পাইলটদের বিষয়ে নিজেদের কাছে কোনো তথ্য নেই বলে কাতার তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে।
সূত্র: গালফ বাংলা








