ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। কিন্তু এই বিধি-নিষেধ অমান্য করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পায়রা, মেঘনা ও সন্ধ্যাসহ নানা নদ-নদীতে চলছে মা ইলিশ ধরার মহোৎসব। কোথাও কোথাও প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রকাশ্যে দিবালোকে মাছ ধরা হচ্ছে।
পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় পায়রা নদীর পাঙ্গাশিয়া, আলগী, লেবুখালী ও আঙ্গারিয়া এবং মুরাদিয়া, লোহালিয়া ও পাণ্ডব নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে অসাধু জেলেরা অত্যাধুনিক ফাইটার ইঞ্জিন লাগানো ট্রলার নিয়ে মাছ শিকার করছেন। সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, অন্তত ৩০ থেকে ৩৫টি নৌকায় জেলেরা নির্বিঘ্নে জাল ফেলে মাছ ধরছেন। এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান জানান, জনবল ও টহল টিমের সীমাবদ্ধতার কারণে সব জায়গায় নজরদারি করা কঠিন হয়ে পড়ছে। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ খৈরুল ইসলাম চৌধুরী জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘আমাদের টহল টিম একটু আগেই ওই এলাকা থেকে ঘুরে এসেছে। তবে আমরা টহল টিম বাড়ানোর চেষ্টা করছি।
ভোলার তজুমদ্দিনের মেঘনা নদীতে অভিযান চালিয়ে তিন জেলেকে সাজা দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার ভোররাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চৌমুহনী ঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. কবির, মো. সলেমান ও মো. শাহীনকে আটক করা হয়। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আমির হোসেন জানান, এ সময় একটি নৌকা ও এক হাজার মিটার জাল জব্দ করা হয়েছে। মা ইলিশ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে, মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার হোসেন্দী ইছমানিচর এলাকায় মেঘনা নদীতেও অবাধে ইলিশ শিকার চলছে। স্থানীয় মৎস্য কর্মকর্তা মো. সালাম মিয়া জানান, অসাধু জেলেরা সরকারি নিয়ম না মেনে মাছ ধরছেন এবং মৎস্য বিভাগ অভিযান চালাচ্ছে।
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সন্ধ্যা নদীতে মা ইলিশ সংরক্ষণ উপলক্ষে বিশেষ মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য অফিসের যৌথ এ অভিযানে প্রায় ৬ হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল উদ্ধার করে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। অভিযানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) উম্মে সালমা খাতুন ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রসেন মজুমদারসহ অন্যান্য কর্মকর্তা এবং পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ইলিশের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে নদীপথে এমন বিশেষ অভিযান ও মোবাইল কোর্ট নিয়মিত চলমান থাকবে বলে জানানো হয়েছে। রোববার দুপুরে উপজেলার পাঙ্গাশিয়ার হাজীর হাট ও রাজাগঞ্জ এলাকার মধ্যবর্তী পায়রা নদীতে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়। তাদের বাড়ি বোরহানউদ্দিন উপজেলার দক্ষিণ মির্জাকালুর হাশেম নগর এলাকায়।
দেশের বিভিন্ন নদ-নদীতে অভিযানের পাশাপাশি অসাধু জেলেদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মৎস্য অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর হুশিয়ারি দেওয়া হলেও অনেক জায়গায় জেলেরা নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই নদীতে নামছেন। প্রজনন মৌসুমের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মা ইলিশ সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এখন মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে স্থানীয় মৎস্য অফিসগুলো।
সূত্র: দৈনিক আমার দেশ








