বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় বিদ্যালয় থেকে ফেরার পথে মাইক্রোবাসে করে অপহৃত দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে চার দিন পর উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া ১৬ বছর বয়সী আঁখি মনি শেরপুর মজিবর রহমান মজনু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। রোববার পুলিশের একটি বিশেষ দল উপজেলার চকপোতা গ্রামে অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত রিয়াদ হোসেনের বাড়ি থেকে তাকে উদ্ধার করে। মামলা দায়েরের ১ দিন না যেতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে রোববার রিয়াদ হোসেনের বাড়ি থেকে আখি মনিকে উদ্ধার করে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্র অনুযায়ী, বেশ কিছুদিন ধরে ওই ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন চকপোতা গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে রিয়াদ হোসেন (২০)। বিষয়টি পরিবারের পক্ষ থেকে রিয়াদের স্বজনদের জানানো হলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে মেয়েটিকে তুলে নেওয়ার হুমকি দেয়। গত ২৯ সেপ্টেম্বর সকাল আটটার দিকে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে জামাদারের দোকানের সামনে পৌঁছালে রিয়াদ ও তার সহযোগীরা তাকে জোরপূর্বক একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টার দিকে প্রতিদিনের মতো বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে বের হয় আখি মনি। নির্ধারিত সময়ে বিদ্যালয়ে কিংবা বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
দীর্ঘদিন কোনো সন্ধান না মেলায় গত শনিবার রাতে ছাত্রীর মা বাদী হয়ে শেরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন, যা পরে মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়। মামলায় প্রধান আসামি রিয়াদ হোসেন ছাড়াও আরও চারজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন রিয়াদের মা ফরিদা বেগম (৪০), প্রতিবেশী হাফিজার রহমান (৫৫), রিয়াদের ভাই জিহাদ হোসেন (২৫) এবং কহিনুর বেগম ওরফে জেসমিন (৪০)।
মামলা হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। শেরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন নিশ্চিত করেছেন যে, বাদীর এজাহারের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, অপহৃত শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হলেও মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: দৈনিক আমার দেশ








