সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে মিসরকে যুক্ত করার ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তিনি জানিয়েছেন, এই জোটে কায়রোর অন্তর্ভুক্তির পথে কিছু কারিগরি বা টেকনিক্যাল ইস্যু এখনো অমীমাংসিত রয়েছে। এসব বিষয়ে আলোচনার জন্য তিনি ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার থেকে দুই দিনের কায়রো সফর শুরু করেছেন। আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই তথ্য জানান, যদিও মিসরের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানও এই জোটের পরিধি বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। বুধবার লন্ডনভিত্তিক দৈনিক আশার্ক আল-আওসাতকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এরদোয়ান স্পষ্ট করেন যে, তুরস্ক এই উদ্যোগকে কেবল তিন দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না। তিনি বলেন, তাদের দৃষ্টিভঙ্গি আরও ব্যাপক এবং ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের প্রতিটি দেশ একই নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় আসতে পারবে বলে তিনি আশা করেন। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনার ফলে সৃষ্ট নতুন বাস্তবতায় আঞ্চলিক দেশগুলোকে নিজেদের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার দায়িত্ব নিজেদেরই নেওয়ার তাগিদ থেকেই এই চুক্তির উদ্ভব হয়েছে।
ন্যাটোর আদলে তৈরি এই প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল শর্ত হলো, জোটভুক্ত কোনো দেশের ওপর হামলা হলে তা বাকি সদস্যদের ওপরও হামলা হিসেবে গণ্য হবে। তবে মিসরের যোগদানের ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা রয়েছে। যদিও হাকান ফিদান সুনির্দিষ্টভাবে কারিগরি বিষয়গুলোর বিস্তারিত জানাননি, তবে ধারণা করা হচ্ছে এর মধ্যে সদস্যপদ ও চুক্তির কাঠামোগত শর্তাবলি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মিডল ইস্ট আইয়ের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই জোটে মিসরের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে সৌদি আরবের আপত্তি রয়েছে। অন্যদিকে, ন্যাটোর মতো যৌথ সুরক্ষার কঠোর বাধ্যবাধকতা মেনে নেওয়ার বিষয়ে কায়রো এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষায় ‘কারিগরি বিষয়’ হিসেবে চিহ্নিত হলেও, এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সদস্য দেশগুলোর নিরাপত্তা-স্বার্থ, পারস্পরিক প্রতিশ্রুতি এবং জটিল আঞ্চলিক রাজনৈতিক সমীকরণ গভীরভাবে জড়িত। চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এই বিষয়গুলোর সুরাহা এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরির ওপর। আপাতত তুরস্কের কূটনৈতিক তৎপরতা এই অঞ্চলের নিরাপত্তা স্থাপত্যে নতুন কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে আন্তর্জাতিক মহল।
বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ও শুক্রবার মিসরের রাজধানী কায়রো সফর করছেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে এরদোয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধের ফলে তৈরি হওয়া নতুন বাস্তবতা থেকেই এ ধরনের একটি চুক্তির প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: গালফ বাংলা








