মিরপুর ১০ নম্বরের ফুটপাত ও সড়ক এখন হকারমুক্ত

প্রকাশ:

রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর সেকশনের সি ব্লকের অ্যাভিনিউ-২ সড়কটি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রশস্ত ও খোলামেলা। গত বুধবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) উদ্যোগে পরিচালিত এক উচ্ছেদ অভিযানের ফলে এলাকাটি দীর্ঘদিনের হকারদের দখলমুক্ত হয়েছে। শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, যে সড়কে অটোরিকশা থেকেও নামতে দ্বিধাবোধ করেছিলেন পথচারীরা, সেখানে এখন ফুটপাত দিয়ে মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটাহাঁটি করছেন। গতকাল শুক্রবার বেলা তিনটার দিকে পানির ট্যাংক এলাকায় এসে থামল ব্যাটারিচালিত একটি অটোরিকশা।

হোপ প্লাজা ভবনের আশপাশের এই এলাকাটি স্থানীয়ভাবে ‘হোপ মার্কেট’ হিসেবে পরিচিত ছিল। দীর্ঘ সময় ধরে এখানে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে ভ্রাম্যমাণ বাজার বসত। কাপড় কিনতে আসা দুই শিক্ষার্থী সুরাইয়া মিম ও নওশীন জাহান জানান, তারা আগে এই রাস্তার প্রকৃত প্রশস্ততা বা ফুটপাতের অস্তিত্ব বুঝতেই পারেননি। ফুটপাত হকারমুক্ত হওয়ায় তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন, যদিও কেনাকাটার সুযোগ না থাকায় কিছুটা আক্ষেপও ছিল তাদের কণ্ঠে। সড়ক ও ফুটপাতজুড়ে কোথাও কোনো দোকান নেই, নেই হকার বা ভ্রাম্যমাণ কোনো বিক্রেতাও। অতীতেও এখান থেকে কাপড় কিনেছেন; কিন্তু পরিচিত এই জায়গায় এসে দোকানপাটের কোনো চিহ্ন না দেখে অবাক হয়েছেন।

উচ্ছেদের আগের চিত্রটি ছিল ভিন্ন। মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে বি ব্লকের ১১/১ ও ১১/২ নম্বর লেন, বায়তুল কুদ্দুস জামে মসজিদের পাশের ফুটপাত, মিরপুর আদর্শ বালিকা উচ্চবিদ্যালয় সংলগ্ন সড়ক এবং সি ব্লকের অ্যাভিনিউ-২ পর্যন্ত বড় অংশ জুড়ে ছিল হকারদের রাজত্ব। বাঁশ, কাঠ ও ত্রিপল ব্যবহার করে তৈরি করা এসব দোকানে পোশাক, জুতা, প্রসাধনীসহ নানা পণ্য বিক্রি হতো। স্থানীয়দের তথ্যমতে, সি ব্লকের অ্যাভিনিউ-২ থেকে ৬ নম্বর লেন পর্যন্ত প্রায় ২০০ মিটার রাস্তার উভয় পাশের ফুটপাত পুরোপুরি বেদখল ছিল। কারণ, এত দিনের চেনা জায়গাটি যেন ভিন্ন রূপ নিয়েছে।

বুধবার সকাল সাড়ে নয়টায় শুরু হওয়া এই উচ্ছেদ অভিযান বেশ উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। ডিএনসিসির কর্মীদের অভিযানে হকার ও দোকানিদের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ডিএনসিসির তিনটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। হামলায় বেশ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীও আহত হয়েছিলেন। পরে ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খানের উপস্থিতিতে মিরপুর ১০ থেকে ১৩ নম্বর পর্যন্ত সড়কের দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়।

বর্তমানে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে বিআরটিএ পর্যন্ত দীর্ঘ এলাকাটি এখন সম্পূর্ণ ফাঁকা। গত কয়েক বছর ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছিলেন, যা এখন অনেকটা কমেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদা বেগম তার সন্তানকে নিয়ে এখন নিশ্চিন্তে ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে পারছেন। একইভাবে রফিকুল ইসলাম নামের আরেক বাসিন্দা জানান, ঘর থেকে বের হলেই এখন আর আগের মতো যন্ত্রণাদায়ক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় না। একজন ব্যাগ থেকে ভাড়ার টাকা বের করছিলেন, অন্যজন তাকাচ্ছিলেন চারদিকে। চারপাশ এতটাই ফাঁকা যে রিকশা থেকে নামবেন কি না, তা নিয়েও যেন খানিকটা দ্বিধায় পড়েছিলেন তাঁরা। শেষ পর্যন্ত ভাড়া মিটিয়ে রিকশা থেকে নামলেন দুজন। এগিয়ে গিয়ে কথা বলে জানা গেল, তাঁরা এসেছেন মিরপুর ১০-এর হোপ মার্কেটে কাপড় কিনতে।

উচ্ছেদ অভিযানের পর স্থানীয়দের এখন বড় দাবি হলো, এই দখলমুক্ত পরিবেশ যেন স্থায়ী হয়। বাসিন্দারা আশা করছেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নিয়মিত নজরদারির মাধ্যমে ফুটপাত ও সড়ক পুনরায় অবৈধ দখলে যাওয়া রোধ করবে। শুক্রবার বিকেলে এলাকাটিতে উচ্ছেদের পর পড়ে থাকা ভাঙা দোকানপাটের ধ্বংসাবশেষ ছাড়া আর কোনো অস্থায়ী কাঠামোর অস্তিত্ব চোখে পড়েনি।

উল্লেখ্য যে, এই উচ্ছেদ কার্যক্রমের সময় সংঘর্ষের ঘটনায় আইনানুগ প্রক্রিয়ায় ৩০ জনকে আটক করা হয়েছে। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্থানীয়ভাবে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

শেয়ার করুন