নিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাই এবং রাডার ও যোগাযোগ অবকাঠামো মেরামতের কার্যক্রম চলমান থাকায় রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিতের সময়সীমা আরও ২৪ ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন (জিএসিএ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা ও কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিমানবন্দরটি পুনরায় কবে চালু হবে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা এখনো ঘোষণা করেনি। এর আগে সাম্প্রতিক এক হামলার পর বিমানবন্দরের রাডার ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছিল। বার্তা সংস্থা এএফপির বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় বিমানবন্দরের রাডার ও যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এসব ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিমানবন্দরের এই অচলাবস্থার প্রভাব পড়েছে সৌদি আরবের পুরো আকাশপথের সূচিতে। বিশেষ করে জেদ্দা, মদিনা ও দাম্মামের সঙ্গে আকাশপথে যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাকিস্তানের বিমান চলাচল খাতের তথ্যানুসারে, গত সোমবার পাকিস্তান ও রিয়াদের মধ্যে নির্ধারিত ৩২টি ফ্লাইট পুরোপুরি বাতিল করতে হয়েছে। জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিস্থিতিও নাজুক; সেখানে অন্তত ১৫৬টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং ৩৭৪টি ফ্লাইটের সময়সূচিতে বড় ধরনের বিপর্যয় বা বিলম্ব ঘটেছে। তবে কিছুটা স্বস্তির খবর হলো, দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ছয় ঘণ্টা স্থগিত থাকার পর ফ্লাইট চলাচল ফের স্বাভাবিক হয়েছে।
পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সৌদি আকাশসীমা ব্যবহারকারী বিমান সংস্থাগুলোর জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ)। চলমান সামরিক তৎপরতার প্রেক্ষাপটে আকাশপথে নিরাপত্তার ঝুঁকি বিবেচনায় মার্কিন বিমান সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আল জাজিরা ও আল আরাবিয়ার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, পুরো সৌদি আরবের আকাশসীমায় ফ্লাইট পরিচালনায় বর্তমানে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রীরা ব্যাপক ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার লক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরলস কাজ করে যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সূত্র: গালফ বাংলা








