সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে মরিনিওর ফেরা: এমবাপ্পের হ্যাটট্রিকে রিয়াল মাদ্রিদের বড় জয়

প্রকাশ:

দীর্ঘ ১৩ বছর বা ৪ হাজার ৮৩৪ দিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ডাগআউটে ফিরেছেন জোসে মরিনিও। এই দীর্ঘ সময়ে পৃথিবী অনেক বদলে গেলেও মরিনিওর চেনা সেই অস্থিরচিত্তে পায়চারি করার ভঙ্গি বদলায়নি। প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে সমর্থকদের কাছ থেকে দুয়োধ্বনি যেমন শুনেছেন, তেমনি দলের ৪-১ গোলের জয়ে করতালির বৃষ্টিতেও ভিজেছেন এই পর্তুগিজ কোচ। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে লা লিগায় নিজের ঘরের মাঠে ৫৮তম ম্যাচে এটি ছিল তাঁর ৫০তম জয়, যার মাধ্যমে তিনি বার্নাব্যুতে ২০০ গোলের মাইলফলকও স্পর্শ করেছেন।

ম্যাচটিতে রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে রিয়াল মাদ্রিদের আক্রমণভাগের নৈপুণ্য ছিল দেখার মতো। কিলিয়ান এমবাপ্পে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও জুড বেলিংহামের সমন্বয়ে গড়া আক্রমণভাগ প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করে রাখে। প্রথমার্ধের ৪০ মিনিটে ফেদে ভালভের্দের পাস থেকে এমবাপ্পে প্রথম গোলটি করেন। যদিও চার মিনিট পরই লুকা সুসিচের গোলে সমতায় ফিরেছিল সোসিয়েদাদ। তবে দ্বিতীয়ার্ধে রিয়াল মাদ্রিদ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়।

দ্বিতীয়ার্ধে এমবাপ্পে তাঁর জাদু দেখান। ৬০ ও ৮০ মিনিটে বেলিংহাম ও ভিনিসিয়ুসের পাস থেকে গোল করে রিয়ালের জার্সিতে নিজের ষষ্ঠ হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন ফরাসি এই তারকা। মাঝে ৬৮ মিনিটে বেলিংহামের পাস থেকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র দলের হয়ে একটি গোল করেন। বিশেষ করে এমবাপ্পের শেষ গোলটির উৎস হিসেবে ভিনিসিয়ুসের ডিফেন্স চেরা পাসটি ছিল ম্যাচের অন্যতম সেরা মুহূর্ত।

ম্যাচ শেষে মরিনিও নিজের মাইলফলক নিয়ে খুব একটা আগ্রহী ছিলেন না। বরং এমবাপ্পের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন তিনি। মরিনিও বলেন, ‘এই ছেলেটি অবিশ্বাস্য। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ইতিহাস গড়তে সে ভীষণ আগ্রহী।’ এ মৌসুমে এমবাপ্পের কাছে কত গোল প্রত্যাশা করেন—এমন প্রশ্নের জবাবে মরিনিও নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা না বলে জানান, তিনি দলের প্রতি এমবাপ্পের দায়িত্ববোধ ও পরিশ্রম নিয়ে সন্তুষ্ট। তিনি যোগ করেন, ‘সে ৬০, ৪০ কিংবা ৫০ গোল করবে কি না জানি না, তবে ট্রফিসহ ৪০ গোল বা অনেক পরিশ্রমের ৪০ গোলেই আমি খুশি।’

ম্যাচের শুরুতে সমর্থকদের দুয়োধ্বনি প্রসঙ্গে মরিনিও বেশ স্বাভাবিক ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা বার্নাব্যুকে চিনি, খেলোয়াড়রাও জানে। সামান্য দুয়োধ্বনিতে কারও কোনো ক্ষতি হবে না।’ উল্লেখ্য যে, এই ম্যাচের আগে বার্নাব্যুতে আলোকসজ্জার মাধ্যমে মরিনিওর প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করে তোলার চেষ্টা করা হয়েছিল। যদিও প্রথমার্ধে রিয়াল কিছুটা ধীরগতিতে শুরু করেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত বড় জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছে তারা।

উল্লেখ্য যে, এই ম্যাচের পাশাপাশি ফুটবলের অন্যান্য খবরের মধ্যে বার্সেলোনার কাছে আলভারেজকে বিক্রি করার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে আতলেতিকো মাদ্রিদ। এছাড়া লেস্টার সিটি ছেড়ে হামজার ডার্বিতে যোগ দেওয়ার গুঞ্জন নিয়েও ফুটবল বিশ্বে আলোচনা চলছে। তবে সব ছাপিয়ে বার্নাব্যুতে মরিনিওর প্রত্যাবর্তন এবং এমবাপ্পের হ্যাটট্রিকই ছিল গতকালের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ১৩ বছর লম্বা সময়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ১৩ বছর আগে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ডাগআউটে যেভাবে অস্থিরচিত্তে পায়চারি করতেন, গতকাল রাতেও তাঁকে সেভাবেই দেখা গেল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ছিল না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: স্মার্টওয়াচ পৌঁছাতে শুরু করে মানুষের ঘরে ঘরে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এমনকি রিয়ালের সমর্থকদের সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক পাল্টায়নি এতটুকু। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওহ, বলাই হয়নি—লা লিগার এই ম্যাচে স্বাগতিকদের প্রতিপক্ষ ছিল রিয়াল সোসিয়েদাদ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আসলে এই ম্যাচে কিলিয়ান এমবাপ্পে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, জুড বেলিংহামরা যেভাবে খেলেছেন, তাতে দর্শকদের কেউ কেউও তাদের প্রতিপক্ষ দলের নাম ভুলে গেলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

শেয়ার করুন