ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া এক বিবাহিত দম্পতির ভাড়া বাসায় হামলা ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। রবিবার (১৭ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে উপজেলার ধামসোনা ইউনিয়নের নলাম এলাকায় অবস্থিত ওই দম্পতির ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী দম্পতি জানান, তারা দীর্ঘ দিন ধরে বিবাহিত এবং স্বামী-স্ত্রী উভয়ই সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। সম্প্রতি উত্ত্যক্তের শিকার হওয়ার জেরে স্ত্রী অন্য ক্যাম্পাসে ভর্তি হলেও তারা নলাম এলাকার ওই বাসায় বসবাস করছিলেন। তাদের সঙ্গে ওই বাসায় আরও দুই নারী শিক্ষার্থী অবস্থান করছিলেন।
ভুক্তভোগী দম্পতির মধ্যে স্বামী জানান, ঘটনার সময় তিনি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বাজারে ছিলেন। তার ভাষ্য, ৬/৭ জন ব্যক্তি বাসায় গিয়ে দরজায় লাথি ও ধাক্কাধাক্কি করেন এবং বাসায় থাকা নারীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, আমি তখন বাসায় ছিলাম না। আমাকে পেলে হয়তো মারধর করা হতো। ঘটনার পুরো ভিডিও ও অডিও ফুটেজ আমার কাছে সংরক্ষিত আছে। হামলাকারীদের মধ্যে শিপন নামের একজনকে ভিডিও দেখে শনাক্ত করেছেন বলে তিনি জানান। ভুক্তভোগী দম্পতির দাবি, হামলাকারীদের সঙ্গে তাদের আগে কোনো বিরোধ ছিল না। কেন তারা বাসায় এসে এমন আচরণ করলেন তা নিয়ে তিনি আতঙ্কিত এবং নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত বোধ করছেন। তিনি জানান, নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লে তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।
ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিয়ে ভুক্তভোগী দম্পতি জানান, রবিবার রাতে ৫-৬ জনের একটি দল ওই বাসাটিতে গিয়ে ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কাধাক্কি ও গালিগালাজ করেন। সেই সময় বাসায় স্ত্রীসহ অপর কক্ষের দুই নারী শিক্ষার্থী ও এক শিক্ষার্থীর মা অবস্থান করছিলেন। হামলাকারীদের মধ্যে একজনের গায়ে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো সংবলিত শিপন নাম লেখা জার্সি দেখা গেছে। ভুক্তভোগীরা নিশ্চিত করেছেন যে হামলাকারীরা গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তবে তাদের নাম ও বিস্তারিত পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এই ঘটনার পর থেকে দম্পতিটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন।
বিষয়টি মীমাংসার দায়িত্ব নেওয়া গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (গকসু) ভিপি ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান বলেন, ওই বাসায় এক দম্পতির পাশাপাশি আরও দুই নারী শিক্ষার্থী থাকেন। তিনি দাবি করেন, বাসাটি ঘিরে আগে চুরির ঘটনা নিয়ে এলাকায় বিরোধ ছিল। শিক্ষার্থীরা তাকে মারতে যাননি দাবি করে তিনি আরও বলেন, ডাকাডাকি করেছি, কিন্তু তাকে পাইনি। বাসা ভাঙচুরের অভিযোগ মিথ্যা এবং সিসিটিভি ফুটেজ আমাদের কাছে আছে। তিনি জানান, এলাকায় বিশৃঙ্খলা হচ্ছে—এমন অভিযোগের ভিত্তিতেই শিক্ষার্থীরা সেখানে গিয়েছিল। তবে এই ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সোমবার শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বসে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী দম্পতি জানিয়েছেন, তাদের স্ত্রী আগে কৃষি বিভাগের এক শিক্ষার্থীর উত্ত্যক্তের শিকার হয়েছিলেন এবং এ নিয়ে বিরোধের পর অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। বর্তমান ঘটনার সঙ্গে পূর্বের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও ছাত্র সংসদের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। সোমবারের বৈঠকে ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে আছেন ভুক্তভোগী দম্পতি ও স্থানীয়রা।
সূত্র: Probash Khabor








