কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার একটি খসড়া সমঝোতা স্মারকে ওয়াশিংটন সম্মতি দিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে আনাদোলু এজেন্সি। কাতারি সংবাদপত্র ‘আল-আরাবি আল-জাদিদ’-এর তথ্য অনুযায়ী, মধ্যস্থতাকারী দলটি এই সমঝোতা বিষয়ে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকেও অবগত করেছে এবং তারাও এতে সমর্থন জানিয়েছে। উভয় দেশের পক্ষ থেকেই বিদ্যমান জটিলতা নিরসনে ছাড় দেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের কাছে উপস্থাপিত একটি সমঝোতা স্মারকের খসড়ায় যুক্তরাষ্ট্র অনুমোদন দিয়েছে বলে জানা গেছে।
চুক্তির রূপরেখা অনুযায়ী, তেহরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু ছাড় দেবে এবং এর বিপরীতে ওয়াশিংটন ইরানের দীর্ঘকাল ধরে অবরুদ্ধ থাকা অর্থসম্পদের একটি অংশ অবমুক্ত করার ঘোষণা দেবে। সূত্রগুলো জানিয়েছে, উভয় পক্ষ একই সময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সমঝোতার ঘোষণা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা আঞ্চলিক উত্তজনা নিরসনে আলোচনার পথ সুগম করতে পারে। প্রাথমিক পদক্ষেপ এবং একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির ঘোষণাসহ উভয় পক্ষ কীভাবে একই সাথে এই চুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে—যা নতুন করে আলোচনার পথ উন্মুক্ত করবে—সে সংক্রান্ত প্রস্তুতি ও বন্দোবস্ত নিয়ে আলোচনা চলছে।
মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা শুরু হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের ওপর হামলা চালায়। এর জের ধরে এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের আগ পর্যন্ত ইরান ইসরাইল এবং ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থানে পাল্টা হামলা চালায়। পরিস্থিতি শান্ত করতে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনার এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল হামলা চালানোর পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এর আগেও ১৮ জুন দুই পক্ষ হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচলের স্বাধীনতার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছিল। তবে প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে সেই চুক্তির বাস্তবায়ন শেষ পর্যন্ত থমকে যায়। বর্তমানের নতুন এই প্রচেষ্টা সফল হলে তা দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত নিরসনে একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।
সূত্র: গালফ বাংলা








