ইরান সীমান্তে ইসরাইলি যুদ্ধবিমানের মহড়া, নেপথ্যে সামরিক সতর্কবার্তা

প্রকাশ:

মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার আবহেই ইরানের সীমান্ত পর্যন্ত উড্ডয়ন চালিয়েছে ইসরাইলের সামরিক বাহিনীর এক ডজন যুদ্ধবিমান। গত সোমবারের এই বিশেষ অভিযানে যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি অংশ নেয় আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানও। ইসরাইল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কয়েকজন কর্মকর্তার সূত্রে এ খবর নিশ্চিত করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।

প্রতিবেদনে জানা যায়, ইসরাইলি ঘাঁটি থেকে প্রায় ৮০০ মাইলেরও বেশি দূরবর্তী এলাকায় এই সামরিক উপস্থিতি জানান দেওয়া হয় মূলত তেহরানকে নিজেদের সক্ষমতা সম্পর্কে সতর্ক করার জন্য। ঘটনাচক্রে একই দিনে ইসরাইলের ওভদা বিমানঘাঁটিতে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে বৈঠক করেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, হেগসেথের সফরসূচির সঙ্গে সামরিক এই মহড়ার প্রত্যক্ষ কোনো যোগসূত্র ছিল না। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইল থেকে ৮০০ মাইলেরও বেশি দূরে পরিচালিত এই অভিযানটি ছিল ইরানকে সামরিক শক্তির বার্তা দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা।

ইসরাইল থেকে উড্ডয়নের পর যুদ্ধবিমানগুলো সিরিয়া ও ইরাকের আকাশপথ ব্যবহার করে সরাসরি ইরানি সীমান্তের দিকে এগিয়ে যায়। এসব বিমান যে পথ ধরে সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছায়, তা ভবিষ্যতে তেহরানের ওপর সম্ভাব্য বিমান হামলার নকশার সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যায়। তবে ইরান সীমান্তের কাছাকাছি পৌঁছেই আক্রমণ না চালিয়ে পথ পরিবর্তন করে নিজেদের ঘাঁটিতে ফিরে আসে ইসরাইলি বিমানগুলো।

অভিযানটি শুরুর আগেই বিষয়টি ওয়াশিংটনকে অবহিত করা হয়েছিল বলে সূত্রে জানা গেছে। এটিকে ইসরাইল একটি সাধারণ প্রশিক্ষণ মহড়া হিসেবে উল্লেখ করে দাবি করে, আসন্ন নির্বাচনের আগে যেন ইরান কোনো হামলা না চালায়, সে জন্য সতর্কবার্তা দেওয়াই ছিল মূল উদ্দেশ্য। যদিও বিষয়টি ঘিরে কোনো কোনো মার্কিন কর্মকর্তার মনে ভিন্ন শঙ্কা দেখা দিয়েছিল। তাঁদের ধারণা, ইসরাইল জানত যে তাদের বিমানের উপস্থিতি ইরানের রাডারে ধরা পড়বে; এমন অবস্থায় ইরান যদি আত্মরক্ষায় কোনো পাল্টা পদক্ষেপ নিত, তবে তা সামরিক সংঘাত বাড়িয়ে নতুন আক্রমণের সুযোগ তৈরি করতে পারত। এমন এক সময়ে এই সামরিক তৎপরতা চালানো হলো, যখন ইরানে নতুন করে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে এ ধরনের অভিযান থেকে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তাদের ধারণা, ইসরাইল জানত যে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা তাদের যুদ্ধবিমানগুলোর গতিবিধি শনাক্ত করতে পারবে।

শেয়ার করুন