ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংস বেছে নিলেন বিরাট কোহলি

প্রকাশ:

ক্রিকেট ক্যারিয়ারে ওয়ানডে ফরম্যাটে ৩০৬টি ইনিংস খেলেছেন বিরাট কোহলি। এর মধ্যে ৫টি ডাবল সেঞ্চুরিসহ মোট ৫৫টি সেঞ্চুরি এবং ৮০টি ফিফটি হাঁকিয়েছেন এই ভারতীয় কিংবদন্তি। স্বাভাবিকভাবেই যে কেউ মনে করতে পারেন, এই বিশাল অর্জনের তালিকা থেকেই হয়তো তিনি নিজের প্রিয় ইনিংসটি বেছে নেবেন। তবে কোহলির পছন্দটি সাধারণের ধারণার চেয়ে বেশ ব্যতিক্রম। ওয়ানডেতে ৩০৬ ইনিংসে একজন মানুষের শুধু সেঞ্চুরিই ৫৫টি। এমন কাউকে এই সংস্করণে নিজের সেরা ইনিংস বেছে নিতে বলা হলে নিশ্চয়ই সেঞ্চুরিগুলোর ভেতর থেকে একটি উঠে আসবে। কোহলির জন্মদিনে দেখে নিন তাঁর বিরল ১০ কীর্তি।

আজ বৃহস্পতিবার কোহলির ৩৮তম জন্মদিন। বিশেষ এই দিনে স্টার স্পোর্টসের সঙ্গে আলাপচারিতায় উঠে আসে তাঁর সেরা ওয়ানডে ইনিংসের প্রসঙ্গ। গত রাতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের প্রথম ওয়ানডে জয়ের ম্যাচে ৭৪ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলার পরই তিনি এই প্রশ্নের জবাব দেন। কোহলির কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, তাঁর ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংস কোনটি? এ উপলক্ষে স্টার স্পোর্টসের এক্স হ্যান্ডলে আজ সকালে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়।

তালিকায় প্রথমে ছিল ২০১২ সালে হোবার্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৩৩ রানের ইনিংস এবং ২০১১ বিশ্বকাপ ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে করা ৩৫ রানের ইনিংস। যদিও হোবার্টে ৩২১ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ভারত জিতেছিল, কোহলি কিন্তু এগিয়ে রাখেন বিশ্বকাপের সেই ৩৫ রানের ইনিংসকেই। দলের জন্য জয়সূচক অবদানকে তিনি বরাবরই বেশি গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। কিন্তু মানুষটি যদি হন বিরাট কোহলি তাহলে এই ভাবনাটা ভুল। তবে সেই উত্তরগুলোয় কারও কারও বিস্ময়ও জাগতে পারে। হোবার্টে সে ম্যাচে শ্রীলঙ্কার ৩২১ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ৪০ ওভারের মধ্যে জেতে ভারত। দলীয় অর্জনকে সব সময় এগিয়ে রাখা কোহলি সম্ভবত বিশ্বকাপ জয়ের কারণেই ওই ইনিংসটাকে এগিয়ে রাখলেন।

পরবর্তী প্রশ্নে ২০২৩ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলা ৮৫ রানের ইনিংস এবং ২০১১ বিশ্বকাপ ফাইনালের ৩৫-এর মধ্যে তুলনা করতে বলা হয়। তখনও অস্ট্রেলিয়ার ১৯৯ রান তাড়া করতে গিয়ে ভারত দ্রুত ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছিল। তবে সেই চাপের মুখে খেলা ৮৫ রানের চেয়েও কোহলির কাছে বিশ্বকাপ ফাইনালে জেতা ৩৫ রানই বেশি মূল্যবান ছিল। ২০১৭ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১২২ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৬০ রানের ঝোড়ো ইনিংসও তাঁর কাছে ওই ৩৫ রানের ইনিংসের চেয়ে এগিয়ে থাকতে পারেনি। ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ২০১১ বিশ্বকাপ ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৬ উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত। দুই বছর আগের সেই বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার ১৯৯ তাড়া করতে নেমে ভারত ৩ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল।

তবে শেষ পর্যন্ত সেই ৩৫ রানকেও ছাড়িয়ে যায় ২০১৩ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা ৪৩ রানের ইনিংস।

বৃষ্টিবিঘ্নিত সেই ম্যাচে ভারত আগে ব্যাটিংয়ে নেমে মাত্র ৬৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ভীষণ বিপদে পড়েছিল। রবীন্দ্র জাদেজাকে সঙ্গী করে ৪৭ রানের জুটি গড়ার পথে কোহলি ৩৪ বলে ৪৩ রান করেন। শেষ পর্যন্ত ৫ রানের রোমাঞ্চকর জয় নিয়ে ভারত শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছিল। কোহলির মতে, সেই ৪৩ রানের ইনিংসটিই তাঁর ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সেরা। অর্থাৎ, তাঁর পছন্দের সেরা দুটি ইনিংসই ভারতকে ট্রফি এনে দিয়েছিল। এমন অর্জনের সামনে হার মেনেছে ২০১২ এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে করা তাঁর ১৮৩ রান, ২০১৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৩৮ রানের ইনিংস এবং একই বছর বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে করা ১০৭ রানের ইনিংসগুলো।

শেয়ার করুন