কাতার এবং উজবেকিস্তানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সাংস্কৃতিক বন্ধনকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক ও স্থায়ী রূপ দিতে সম্প্রতি পাঁচ বছর মেয়াদী একটি গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। কাতার মিউজিয়ামস (QM) এবং উজবেকিস্তানের আর্ট অ্যান্ড কালচার ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (ACDF)-এর মধ্যে সম্পাদিত এই চুক্তিটি দুই দেশের সাংস্কৃতিক কূটনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। এর ফলে এতদিনকার বিচ্ছিন্ন প্রদর্শনী বা পারস্পরিক সদিচ্ছার সম্পর্ক এখন একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোর আওতায় পরিচালিত হবে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে কাতারের পক্ষে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও কাতার মিউজিয়ামস বোর্ড অব ট্রাস্ট্রিজের সদস্য ড. মারিয়াম বিনতে আলি বিন নাসের আল মিসনাদ এবং উজবেকিস্তানের পক্ষে এসিডিএফ-এর চেয়ারপারসন গায়ানে উমেরোভা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করেন। কাতারের ‘ইয়ার্স অব কালচার’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই অংশীদারিত্বকে দেখা হচ্ছে, যা মূলত মানবসম্পদ উন্নয়ন, যৌথ গবেষণা এবং শৈল্পিক প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে।
কাতার মিউজিয়ামসের চেয়ারপারসন হিজ হাইনেস শেখা আল-মায়াসা বিনতে হামাদ বিন খলিফা আল থানি এই উদ্যোগের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে বলেন, “সংস্কৃতিতে বিনিয়োগ মানে মূলত মানুষের মেধা ও দক্ষতায় বিনিয়োগ।” তিনি বিশ্বাস করেন, ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং প্রতিভা বিকাশের এই সমন্বিত প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সৃজনশীল পেশাজীবীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে। উজবেকিস্তানের প্রতিনিধি গায়ানে উমেরোভা একে শিল্পী ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের টেকসই ভবিষ্যতের পথে একটি মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন।
চুক্তির মূল ক্ষেত্রসমূহ
- পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন: যৌথ কর্মশালা, বিশেষায়িত শিক্ষা ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি।
- শিল্পী বিনিময় কর্মসূচি: উভয় দেশের শিল্পীদের পারস্পরিক যাতায়াত সহজতর করা এবং পেশাগত নেটওয়ার্ক বিস্তারের সুযোগ তৈরি।
- সৃজনশীল শিল্প উদ্যোগ: ডিজাইন, কারুশিল্প, চলচ্চিত্র, ফ্যাশন, সঙ্গীত এবং রন্ধনশিল্পের মতো সৃজনশীল খাতে যৌথ গবেষণা ও প্রকল্প গ্রহণ।
- ইসলামিক ঐতিহ্য সুরক্ষা: বিশেষজ্ঞ জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে ঐতিহাসিক ইসলামিক প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলোর পুনরুদ্ধার ও দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
- সাংস্কৃতিক প্রদর্শনী: দুই দেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরতে নিয়মিত যৌথ প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক উৎসব আয়োজন।
এই চুক্তি এমন একটি সময়ে কার্যকর হলো যখন দোহার মিউজিয়াম অব ইসলামিক আর্টে ‘উজবেকিস্তান: হেরিটেজ ইন মোশন’ শীর্ষক একটি বিশেষ প্রদর্শনী চলছে, যা আগামী ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। একই সাথে সেখানে ‘একতাশাফ উজবেকিস্তান’ প্রদর্শনীতে তাসখন্দ, সমরকন্দ ও বুখারার সিল্ক রোডের ঐতিহ্য থেকে অনুপ্রাণিত কাতারী শিল্পীদের অনন্য শিল্পকর্ম প্রদর্শিত হচ্ছে। উল্লেখ্য, এর আগে প্রথম ‘ডিজাইন দোহা বিয়েনিয়াল’-এ উজবেকিস্তানের অংশগ্রহণ এবং কাতার ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট (QFFD)-এর মাধ্যমে সমরকন্দের ঐতিহাসিক বিবি খানম মসজিদ কমপ্লেক্স পুনরুদ্ধারে ৪ দশমিক ১৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান প্রদানের ঘটনা দুই দেশের গভীর সম্পর্কের প্রমাণ বহন করে। এই নতুন চুক্তির ফলে দুই দেশের এই সাংস্কৃতিক অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতে আরও গতিশীল ও সুসংহত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চুক্তির আওতায় যেসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সূত্র: গালফ বাংলা








