মালয়েশিয়ার উন্নয়নের ইতিহাসে মাহাথির মোহাম্মদ ও আনোয়ার ইব্রাহিম—দুজনের নামই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে তাদের অবদানের ধরন ও সময়কাল এক নয়। মাহাথির মোহাম্মদের দীর্ঘ শাসনামলে মালয়েশিয়া কৃষি ও প্রাথমিক পণ্যনির্ভর অর্থনীতি থেকে দ্রুত শিল্পায়ন, পণ্য রপ্তানি ও আধুনিক অবকাঠামোভিত্তিক অর্থনীতির দিকে এক বড় রূপান্তর ঘটায়। অন্যদিকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রধান কাজ হলো সেই অর্জনকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, প্রযুক্তিনির্ভর, উচ্চ আয়ের ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে টেকসই অর্থনীতিতে উন্নীত করা। ফলে বিষয়টি কেবল কে বেশি উন্নয়ন করেছেন তা নয়, বরং দেশটির অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার কোন পর্যায়ে কে কী ভূমিকা রেখেছেন এবং তাদের নীতি কতটা ফলপ্রসূ ছিল, সেটিই মূল আলোচনার বিষয়। এসব প্রকল্পের সব কটির অর্থনৈতিক সাফল্য একই মাত্রার ছিল না; তবে এগুলো মালয়েশিয়ার শিল্প, যোগাযোগ, নগরায়ণ ও আন্তর্জাতিক পরিচিতি গঠনে ভূমিকা রেখেছে। লক্ষ্য শুধু চিপ সংযোজন বা পরীক্ষার কাজেই সীমাবদ্ধ না থেকে শিল্পটির উচ্চমূল্য সংযোজনকারী পর্যায়ে প্রবেশ করা।
মাহাথিরের সময়: শিল্পায়ন ও আধুনিক মালয়েশিয়ার ভিত্তি
মাহাথির মোহাম্মদ ১৯৮১ সালের ১৬ জুলাই মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০০৩ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২২ বছরের বেশি সময় দেশ পরিচালনা করেন। পরবর্তীতে তিনি ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত দ্বিতীয় মেয়াদেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মাহাথিরের উন্নয়নদর্শনের মূল ভিত্তি ছিল দ্রুত শিল্পায়ন, রাষ্ট্রের সক্রিয় ভূমিকা, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার উন্নয়ন মডেল থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা, যা ‘লুক ইস্ট’ নীতি নামে পরিচিত। তার ঘোষিত ‘লুক ইস্ট’ নীতির মাধ্যমে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মসংস্কৃতি, প্রযুক্তি, শিল্পব্যবস্থা ও ব্যবস্থাপনাগত অভিজ্ঞতা অনুসরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
১৯৮৩ সালে মাহাথির সরকার ‘মালয়েশিয়া ইনকরপোরেটেড’ ধারণা এবং বেসরকারীকরণ নীতি চালু করে, যার উদ্দেশ্য ছিল সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে ব্যবসায়িক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। পরবর্তীতে জাতীয় শিল্পনীতি এবং ১৯৯০ সালে ‘ভিশন ২০২০’ ঘোষণার মাধ্যমে তিনি ২০২০ সালের মধ্যে মালয়েশিয়াকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার সুনির্দিষ্ট দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণ করেন।
বৃহৎ অবকাঠামো ও শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি
মাহাথিরের শিল্পায়ন নীতির প্রতীক হিসেবে ১৯৮৫ সালে জাতীয় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘প্রোটন’ প্রতিষ্ঠিত হয়। এছাড়া ১৯৯৬ সালে মাল্টিমিডিয়া সুপার করিডর চালু করা হয়। তাঁর শাসনামলেই কুয়ালালামপুরে নির্মাণ করা হয় তৎকালীন বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার, কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, পেনাং ব্রিজ এবং আধুনিক প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়া। ১৯৮৫–৮৬ সালে মন্দা দেখা দেয়। তবে এই প্রবৃদ্ধিকে শুধু প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কৃতিত্ব হিসেবে দেখা যথাযথ হবে না।
বিশ্বব্যাংকের এক বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৮৭ সাল থেকে পরবর্তী আট বছরে মালয়েশিয়ার রপ্তানিমুখী ও উৎপাদননির্ভর অর্থনীতি গড়ে ওঠার গতি ছিল অত্যন্ত আকর্ষণীয়। ওই সময়ে দেশটিতে গড়ে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ছিল ৮ শতাংশের বেশি। বিশ্বব্যাংক এই সাফল্যকে মাহাথির সরকারের বেসরকারীকরণ, অর্থনৈতিক উদারীকরণ ও ‘ভিশন ২০২০’ নীতির প্রত্যক্ষ ফলাফল হিসেবে চিহ্নিত করেছে। একইভাবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৯৭৫-১৯৮৫ মেয়াদে মালয়েশিয়ার মোট পণ্য রপ্তানিতে উৎপাদিত শিল্পপণ্যের অবদান ছিল প্রায় ২০ শতাংশ, যা ১৯৮৫-১৯৯৫ মেয়াদে লাফিয়ে প্রায় ৫৪ শতাংশে উন্নীত হয়। পরবর্তী সময়ে তাদের রাজনৈতিক বিরোধ মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে।
দারিদ্র্য বিমোচন ও অর্থনৈতিক বিতর্ক
মাহাথির যুগের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল দারিদ্র্য হ্রাস এবং সামাজিক কাঠামোর পরিবর্তন। ১৯৭০-এর দশক থেকে শুরু হওয়া নিউ ইকোনমিক পলিসি (এনইপি)-এর মূল লক্ষ্য ছিল দারিদ্র্য দূরীকরণ ও জাতিগত অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো। বিশ্বব্যাংকের গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে দ্রুত শিল্পায়ন ও অ-কৃষি কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ফলে স্থানীয় বুমিপুত্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে দারিদ্র্য দ্রুত হ্রাস পায় এবং শিক্ষা ও পেশাগত ক্ষেত্রে তাদের দৃশ্যমান অগ্রগতি ঘটে।
তবে মাহাথিরের অর্থনৈতিক নীতি সমালোচনার ঊর্ধ্বে ছিল না। ১৯৮০-এর দশকের প্রথমার্ধে ভারী শিল্পায়নে অতিরিক্ত রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ ও বৈদেশিক ঋণের কারণে দেশটি সাময়িক অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়ে। পরবর্তীতে বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার কারণে ওই সময়ে ভারী শিল্পকেন্দ্রিক কৌশল পুনর্মূল্যায়ন করতে হয়। এছাড়া মাহাথির আমলে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি মেগা প্রকল্প, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও ব্যবসায়িক পৃষ্ঠপোষকতার এক ধরণের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক বিদ্যমান।
আনোয়ারের সময়: উচ্চপ্রযুক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সংস্কার
আনোয়ার ইব্রাহিম ২০২২ সালের ২৪ নভেম্বর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হন। তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারের সামনে একেবারেই নতুন শিল্পভিত্তি গড়ার সুযোগ ছিল না; বরং মাহাথির আমলের তৈরি হওয়া কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মানোন্নয়ন করাই তাঁর প্রধান চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়। আনোয়ারের অর্থনৈতিক দর্শনের প্রধান রূপরেখা নির্ধারিত হয়েছে ‘মালয়েশিয়া মাদানি’ এবং ‘ইকোনমি মাদানি’ কাঠামোর মাধ্যমে। এর লক্ষ্য হলো অর্থনীতির উৎপাদনক্ষমতা বাড়ানো, জীবনযাত্রার মান সুসংহত করা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্য দূর করা। বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়নে এসব পদক্ষেপের কিছু ইতিবাচক ফলের কথা বলা হলেও সংকটটি মালয়েশিয়ার আর্থিক ব্যবস্থার দুর্বলতাও সামনে এনেছিল। তার নেতৃত্বাধীন সরকারের সামনে মাহাথিরের সময়ের মতো একেবারে নতুন শিল্পভিত্তি নির্মাণের চ্যালেঞ্জ নেই। বরং প্রতিষ্ঠিত শিল্প, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় মালয়েশিয়ার অবস্থান, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও মানবসম্পদকে আরও উন্নত করা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো তার সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে।
এই নীতির অধীনে আনোয়ার সরকার ২০২৪ সালের এপ্রিলে জাতীয় সেমিকন্ডাক্টর কৌশল গ্রহণ করে। এর মাধ্যমে উচ্চপ্রযুক্তির সেমিকন্ডাক্টর খাতে বৈশ্বিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং স্থানীয় প্রকৌশলী ও গবেষণার দক্ষতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। মূলত মাহাথিরের সময়ে মালয়েশিয়া ইলেকট্রনিকস ও ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে প্রবেশ করেছিল; আর আনোয়ার সেই ভিত্তিকে আরও উচ্চমূল্যের ডিজাইনিং ও গবেষণা নির্ভর স্তরে রূপান্তর করতে চাচ্ছেন।
বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রবৃদ্ধি ও ভর্তুকি সংস্কার
আনোয়ার ইব্রাহিমের শাসনামলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিসংখ্যান লক্ষ্য করা গেছে। মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এমআইডিএ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশটিতে অনুমোদিত মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৩৭৮.৫ বিলিয়ন রিঙ্গিত, যা দেশটির ইতিহাসে এক বছরে সর্বোচ্চ। ২০২৬ সালের ৬ মার্চ প্রকাশিত এমআইডিএ-র হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, ২০২৫ সালেও এই ধারা অব্যাহত ছিল এবং ওই বছর অনুমোদিত বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৯৫.৮ বিলিয়ন রিঙ্গিতে। মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশটিতে অনুমোদিত বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৩৭৮.৫ বিলিয়ন রিঙ্গিত, যা আগের বছরের তুলনায় ১৪.৯ শতাংশ বেশি এবং সে সময় পর্যন্ত সর্বোচ্চ। মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ২০২৬ সালের ৬ মার্চ প্রকাশিত তথ্যে জানায়, ২০২৫ সালে অনুমোদিত বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ৪২৬.৭ বিলিয়ন রিঙ্গিত, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ১১ শতাংশ বেশি। ৮ হাজার ৩৯০টি অনুমোদিত প্রকল্প থেকে প্রায় ২ লাখ ৪৪ হাজার ৯০২টি নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে অনুমোদিত বিনিয়োগ মানেই সব প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে বা সব কর্মসংস্থান ইতিমধ্যে সৃষ্টি হয়েছে—এমন নয়। ২০২৫ সালে জিডিপির বর্তমান বাজারমূল্য ছিল ২.০৩ ট্রিলিয়ন রিঙ্গিত।
মালয়েশিয়ার পরিসংখ্যান বিভাগের তথ্যমতে, ২০২৪ সালে দেশটির জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৫.১ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয় ৪.৮ শতাংশ। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি আনোয়ার সরকারের অন্যতম বড় পদক্ষেপ হলো রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও ভর্তুকি সংস্কার। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে অহেতুক সরকারি ব্যয় কমাতে এবং সরাসরি দরিদ্রদের অর্থনৈতিক সুবিধা দিতে পর্যায়ক্রমে ভর্তুকি পুনর্গঠন নীতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০২৫ সালে তাঁর সরকার ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের জন্য ‘ত্রয়োদশ মালয়েশিয়া পরিকল্পনা’ উপস্থাপন করে, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-ভিত্তিক অর্থনীতি, উচ্চপ্রযুক্তির উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসনের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। ফলে উন্নয়নের পরিসংখ্যানের পাশাপাশি সম্পদের বণ্টন, প্রতিযোগিতা, জবাবদিহি ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতার প্রশ্নও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গাড়ি, যোগাযোগব্যবস্থা ও ডেটা সেন্টারের প্রসারের কারণে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের গুরুত্ব বেড়েছে। এর মধ্যে দেশীয় বিনিয়োগ ছিল ২০৮.১ বিলিয়ন এবং বিদেশি বিনিয়োগ ১৭০.৪ বিলিয়ন রিঙ্গিত। জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যে ব্যাপক ভর্তুকির কারণে সরকারি ব্যয়ের ওপর যে চাপ তৈরি হয়, তা কমিয়ে প্রকৃত প্রয়োজনীয় জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বার্ষিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪.৫ থেকে ৫.৫ শতাংশে রাখা, রাজস্ব ঘাটতি জিডিপির ৩ শতাংশের নিচে নামানো এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
দুই নেতার ঐতিহাসিক সম্পর্ক ও নীতির তুলনা
মাহাথির ও আনোয়ারের অবদানের তুলনা করতে গেলে তাদের দায়িত্ব পালনের সময়কাল এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট পৃথকভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। মাহাথিরের প্রথম দীর্ঘ শাসনামল (১৯৮১-২০০৩) ছিল উদীয়মান অর্থনীতির যুগ, যেখানে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল নতুনভাবে বিস্তৃত হচ্ছিল। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মাহাথির কৃষিভিত্তিক দেশকে ম্যানুফ্যাকচারিং হাবে পরিণত করেন।
অন্যদিকে আনোয়ার ইব্রাহিম একসময় মাহাথির সরকারের উপপ্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ১৯৯০-এর দশকে দেশটির অর্থনৈতিক পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তবে ১৯৯৭-৯৮ সালের এশীয় আর্থিক সংকট মোকাবিলার পদ্ধতি নিয়ে দুই নেতার মধ্যে চরম মতপার্থক্য তৈরি হয়। মাহাথির আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পরামর্শ প্রত্যাখ্যান করে নিজস্ব মূলধন নিয়ন্ত্রণ নীতি গ্রহণ করেন, অন্যদিকে আনোয়ার বাজারমুখী নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের পক্ষে ছিলেন। এই বিরোধের জের ধরে ১৯৯৮ সালে আনোয়ার বরখাস্ত হন। ১৯৯৭–৯৮ সালের এশীয় আর্থিক সংকটও মালয়েশিয়ার অর্থনীতিকে বড় ধাক্কা দেয়।
সংক্ষেপে, মাহাথির মোহাম্মদের ঐতিহাসিক অবদান হলো আধুনিক শিল্পায়িত মালয়েশিয়ার অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক ভিত্তি নির্মাণ করা। আর আনোয়ার ইব্রাহিমের বর্তমান অবদান হচ্ছে সেই পুরোনো ভিত্তিকে রূপান্তর করে উচ্চপ্রযুক্তি, ডিজিটাল অর্থনীতি, সুশাসন এবং আঞ্চলিক বৈষম্যমুক্ত এক আধুনিক কাঠামোর দিকে নিয়ে যাওয়া।
সূত্র: দৈনিক আমার দেশ








