রাজধানীর মোহাম্মদপুরে চানাচুরের প্যাকেটের ভেতরে অভিনব কৌশলে হেরোইন পাচারকালে মো. ফরিদ (৩০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার কাছ থেকে প্রায় তিন লাখ টাকা সমমূল্যের ১৫০ গ্রাম হেরোইন জব্দ করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের এসি ওয়ার্ল্ড দোকানের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়। তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. জুয়েল রানা শনিবার সাংবাদিকদের এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করেন। বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে সাধারণ চানাচুরের প্যাকেট।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাতে মোহাম্মদপুর পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল মাদকবিরোধী টহল ও ছিনতাই প্রতিরোধে দায়িত্ব পালন করছিল। রাত ১০টা ১০ মিনিটের দিকে মোহাম্মদপুর সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে অবস্থানকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, বাবর রোডের একটি দোকানের সামনে দুজন মাদক বিক্রির জন্য অপেক্ষা করছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে ফরিদকে ধরে ফেলে। তবে তার সঙ্গে থাকা অপর সহযোগী দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। এর ১০ মিনিটের মধ্যে পুলিশের দলটি সেখানে পৌঁছালে দুই ব্যক্তি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন।
গ্রেপ্তার ফরিদের দেহ তল্লাশি করে তার ট্রাউজারের পকেট থেকে একটি হলুদ শপিং ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। ব্যাগটির ভেতরে ‘ঈগল চানাচুর’ লেখা ১০টি ছোট প্লাস্টিকের প্যাকেট পাওয়া যায়। প্রতিটি প্যাকেটের ভেতরে রুপালি কাগজে মোড়ানো ১০০টি করে মোট ১ হাজার পুরিয়া হেরোইন ছিল। এ ছাড়া ১০টি সাদা জিপার ব্যাগে আরও ৫০০ পুরিয়া হেরোইন পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে মোট ১ হাজার ৫০০ পুরিয়া হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে, যা ডিজিটাল পরিমাপক যন্ত্রে মেপে ১৫০ গ্রাম ওজন পাওয়া গেছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফরিদ পুলিশকে জানান, তিনি মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পের বাসিন্দা। পলাতক সহযোগীর সহায়তায় এই মাদক বিক্রির উদ্দেশ্যেই তিনি নিজের কাছে রেখেছিলেন। এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র: প্রথম আলো








