মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান অস্থিরতা নিরসন এবং নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা কমাতে তেহরানে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেছেন ইরান ও মক্কা চুক্তিভুক্ত বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা। আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যকার সম্পর্কের বরফ গলাতে এই আয়োজন বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর নিজেদের উদ্যোগে নিরাপত্তার একটি কার্যকর ও টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এই আলোচনার মূল লক্ষ্য। তিনি একে ‘অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা’ কাঠামো হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। বাঘাইয়ের দাবি, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর থেকেই ইরান নিজস্ব প্রচেষ্টায় এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা করছে।
বৈঠকে সৌদি আরবের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণ পরিস্থিতিকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে, বিশেষ করে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বর্তমানে তেহরানে অবস্থান করছেন। যদিও ইরান অভিযোগ করে আসছে যে, সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক সুবিধা দিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে পরোক্ষভাবে আগ্রাসনে সহায়তা করছে, তবুও বর্তমানের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটিকে সম্পর্ক উন্নয়নের একটি বড় সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন বিদ্যমান। বিশেষত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে রিয়াদ ধারাবাহিকভাবে ইরানের সমালোচনা করে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে হুতিদের হামলায় সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনাটি আঞ্চলিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে তেহরানের এই উদ্যোগ সংঘাতের বিস্তার রোধ এবং নতুন যুদ্ধ শুরুর ঝুঁকি কমাতে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখবে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে।
সূত্র: দৈনিক আমার দেশ








