পম্পেইয়ের প্রাচীন আলমারিতে মিলল শিশুর হার ও সুগন্ধি

প্রকাশ:

প্রায় দুই হাজার বছর আগে ৭৯ খ্রিষ্টাব্দে মাউন্ট ভিসুভিয়াসের ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতে চাপা পড়েছিল প্রাচীন রোমান শহর পম্পেই। সম্প্রতি শহরটির ভিয়া ডেল’আবোন্দানজা এলাকায় খননকাজ চালিয়ে গবেষকেরা সিল করা একটি কাঠের আলমারির সন্ধান পেয়েছেন। শিলালিপি দেখে ধারণা করা হচ্ছে, বাড়িটি কর্নেলিয়াস ম্যাক্সিমাস নামের এক ব্যক্তির ছিল। ১৯১২ সালে বাড়িটির সম্মুখভাগের কিছু অংশ উন্মোচিত হলেও ভেতরের কক্ষগুলো এতদিন সবার অগোচরেই ছিল।

আলমারির ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে নানা ধরনের প্রসাধনী, কাচের সুগন্ধির শিশি, চিমটা, ধূপদানি ও ব্রোঞ্জের তৈরি একটি লণ্ঠন। তবে গবেষকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছে শিশুদের গলার একটি বিশেষ হার, যা সে যুগে ‘ক্রেপুন্ডিয়া’ নামে পরিচিত ছিল। হারটিতে প্রাচীন মিসরীয় দেবতা বেস এবং রোমান দেবতা মার্কারিসহ ২০টিরও বেশি ছোট লকেট যুক্ত ছিল। লকেটগুলো থেকে হাঁটার সময় মৃদু শব্দ তৈরি হতো, যা থেকে মা-বাবা সন্তানদের অবস্থান বুঝতে পারতেন। এছাড়া শিশুর পারিবারিক পরিচয় নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও এই হারটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সেখান থেকে পাওয়া গেছে প্রাচীন রোমানদের ব্যক্তিগত ব্যবহারের নানা জিনিসপত্র। শিশুরা যখন হাঁটাচলা করত, তখন লকেটগুলো থেকে ঝুনঝুন শব্দ হতো। ফলে মা-বাবা সহজেই বুঝতে পারতেন সন্তান কোথায় আছে। তাই শিশুর পারিবারিক পরিচয় শনাক্ত করতেও এ হার ভূমিকা রাখত। এ ছাড়া সে যুগে মানুষের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ঘুরে বেড়ানোর প্রবণতা ছিল বেশি।

আলমারিটি পরীক্ষা করে গবেষকেরা রান্নার পাত্র, ৩৮টি ব্রোঞ্জের মুদ্রা এবং সিসার বাটখারা সম্বলিত একটি কাঠের বাক্সের অস্তিত্ব পেয়েছেন। এই সামগ্রী দেখে প্রত্নতাত্ত্বিকদের অনুমান, বাড়ির মালিক সম্ভবত একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। ঘরটির অবস্থা দেখে স্পষ্ট যে, অগ্ন্যুৎপাতের সময় বাসিন্দারা কোনো ধরনের প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাননি। প্রাণ বাঁচাতে তাঁদের দ্রুত সবকিছু ফেলে পালাতে হয়েছিল। এমনকি বাড়ির ভাঁড়ার ঘরে রাখা একটি পাত্রের ভেতর দুটি ইঁদুরের কঙ্কালও পাওয়া গেছে, যা সেই সময়ের অস্থির পরিস্থিতির প্রমাণ দেয়। পম্পেইয়ের ব্যস্ত রাস্তা ভিয়া ডেল’আবোন্দানজার পাশের একটি বাড়িতে আলমারিটি পাওয়া যায়।

শেয়ার করুন