বোকামির মাশুল, ফ্লিকের চোখে ক্লান্তি: এল ক্লাসিকোয় হার

প্রকাশ:

ক্যাম্প ন্যুতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে হারের তিক্ত স্বাদ পেয়েছে বার্সেলোনা।

লিগের শুরুর দিকে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা কাতালানরা নিজেদের মাঠে বড় ম্যাচে ছন্দহীন পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছে। এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে লা লিগায় বার্সেলোনার টানা নয় ম্যাচের জয়ের জয়রথ থেমে গেছে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে হিসাব করলে, সবশেষ ১১ ম্যাচ জয়ের পর গত সপ্তাহে পিএসজির কাছে হেরেছিল দলটি, যা ফ্লিকের শিষ্যদের জন্য টানা দ্বিতীয় হারের ঘটনা। বার্সেলোনা যদি লিগের শুরুর ম্যাচগুলোয় ভালো নাও খেলত, তবু গতকালের হারটি হতাশারই হতো। দ্বিতীয় গোলটার সময়ও আমরা ঠিকভাবে রক্ষণ সামলাতে পারিনি। ওরা দ্রুত আক্রমণে উঠেছিল, আর আমরা সেটা ঠেকাতে পারিনি।’।

মিডফিল্ডার পেদ্রি এই হারের জন্য সরাসরি নিজেদের ভুলকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, প্রথমার্ধে দলটি নিজেদের স্বাভাবিক ফুটবল খেলতে পারেনি। খুব ধীরগতিতে খেলার পাশাপাশি বারবার অহেতুক বল হারানোর ফলে রিয়াল মাদ্রিদ সুবিধা পেয়ে যায়। বিশেষ করে দ্বিতীয় গোলটির সময় রক্ষণভাগের সমন্বয়হীনতা ও প্রতিপক্ষের দ্রুত আক্রমণ রুখতে ব্যর্থ হওয়া বড় প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করেন এই মিডফিল্ডার। মৌসুমে প্রথম ৯ ম্যাচ জেতার পর রিয়ালের কাছে হারের পেছনেই নিজেদের ভুলকেই অন্যতম কারণ মনে করছেন মিডফিল্ডার পেদ্রি। খুব ধীরগতিতে খেলেছি, আর অনেকবার বোকামি করে বল হারিয়েছি।

ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় বার্সা কোচ হান্সি ফ্লিক অবশ্য একে কেবল খেলোয়াড়দের শারীরিক ক্লান্তি ও চোটের ফল হিসেবেই দেখছেন। তিনি জানান, গত কয়েক সপ্তাহ বার্সেলোনার জন্য বেশ চাপের ছিল। সেভিয়া ও প্যারিস সফরের দীর্ঘ ভ্রমণ এবং ঠাসা সূচির কারণে খেলোয়াড়দের সতেজতার অভাব ছিল। ফ্লিকের মতে, প্রথমার্ধে দল ভালো খেলেনি সত্য, তবে দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা উন্নতি দেখা গিয়েছিল, যদিও সুযোগগুলো কাজে লাগানো যায়নি। কোচ হান্সি ফ্লিকও প্রথমার্ধের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট নন। টানা দুই হারে হতাশ হলেও বার্সেলোনার কোচ হান্সি ফ্লিক মনে করেন না, এই ফলাফল তাঁর দলকে বাস্তবতা বুঝিয়ে দিয়েছে। ফ্লিক বলেন, ‘দুটি হার নিয়ে আমি হতাশ। বিষয়টা হলো, খেলোয়াড়েরা কতটা সতেজ আছে এবং তাদের শারীরিক অবস্থা কেমন। প্রথমার্ধে আমরা ভালো খেলিনি, কিন্তু সমতা ফেরানোর পর দ্বিতীয়ার্ধে আমাদের খেলায় উন্নতি হয়েছিল।

রিয়ালের কাছে হারলেও এখনো লা লিগার পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে রয়েছে বার্সেলোনা। বর্তমান সংগ্রহ ২৭ পয়েন্ট। হারের পর কোচ এটাকে ‘রিয়েলিটি চেক’ বলতে নারাজ। বরং তিনি মনে করেন, শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে দল আবার কক্ষপথে ফিরে আসবে। রক্ষণভাগে নিয়মিত খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতিও ম্যাচে প্রভাব ফেলেছে বলে জানান ফ্লিক।

অন্যদিকে রিয়াল মাদ্রিদ কোচ হোসে মরিনিও এই জয়ে অতি উচ্ছ্বসিত নন। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ক্যাম্প ন্যুতে জয়টি দারুণ, তবে শিরোপার লক্ষ্য এখনো অনেক দূরে। মরিনিওর মতে, রিয়াল মাদ্রিদ শুধু এল ক্লাসিকো জেতার জন্য মাঠে নামে না, তাদের প্রধান লক্ষ্য লিগ শিরোপা জয়। তাই এই জয়ের পর কাউকে আত্মতুষ্ট হওয়ার সুযোগ দিতে রাজি নন তিনি। পরের ম্যাচে এল সারদিনেরোয় হারের কোনো অবকাশ নেই বলে সতর্ক করেছেন এই কোচ। আপনারা শুধু ম্যাচগুলোই দেখেন, কিন্তু সেভিয়ার পথে তিন ঘণ্টা বিমানে থাকা, হোটেলে ফেরা, এরপর প্যারিসে যাওয়া—এগুলো অনেক কিছু।

এমবাপ্পের জোড়া গোল এবং রিয়াল-বার্সার খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের রেটিং নিয়ে মাঠের বাইরে আলোচনা তুঙ্গে। যদিও বার্সা কোচ এসবের চেয়ে দলের সামগ্রিক পুনর্গঠন ও পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ওপরই বেশি জোর দিচ্ছেন। এমবাপ্পে ১০, রাফিনিয়া ৮—রিয়াল–বার্সার কে কত নম্বর পেলেন।

শেয়ার করুন