যুবদল কর্মী কাউছার মৃত্যুতে রিমান্ডে দুই ভাই

প্রকাশ:

কুমিল্লা নগরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের যুবদল কর্মী আবু কাউছারকে (৪৩) হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার তৌহিদুল ইসলাম ওরফে তৌহিদ ও তাঁর বড় ভাই তানজির আলমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার সন্ধ্যায় তাঁদের কুমিল্লার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক ফারহাদ রায়হান ভূঁইয়া এই রিমান্ডের আদেশ দেন। কাউছারকে বাঁচাতে অটোরিকশাচালক মাসুম এগিয়ে গেলে তানজির তাঁর মাথা লক্ষ্য করে রামদা দিয়ে কোপ দেন।

ঘটনাটি ঘটে গত শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে, কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার ছত্রখিল পুলিশ ফাঁড়ির পূর্ব পাশের সড়কে। পরে আসামিরা আপস-মীমাংসার প্রস্তাব দিয়ে ১৬ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ছত্রখিল পুলিশ ফাঁড়ির পূর্ব পাশে আসতে বলেন।

কবির হোসেনের করা মামলার এজাহারে বলা হয়, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আপসের কথা বলে কাউছারকে ডেকে নেওয়া হয়েছিল। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।

ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর আসামিরা তাঁর অটোরিকশার গতিরোধ করেন। তাঁরা নির্ধারিত স্থানে পৌঁছালে অটোরিকশার গতি রোধ করেন আসামিরা।

এ সময় সাইফুল ইসলাম (সুমন) চাপাতি দিয়ে কাউছারের পিঠে আঘাত করেন এবং ফরহাদ হোসেন বুকের ডান পাশে সুইচ গিয়ার ছুরি দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করেন।

কাউছারকে রক্ষা করতে গিয়ে অটোরিকশাচালক মাসুমও গুরুতর আহত হন। পরে কাউছারকে হাসপাতালে নেওয়া হলে তিনি মারা যান।

রোববার দুপুরে কোতোয়ালি মডেল থানায় দায়ের করা মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়। আসামিরা হলেন তৌহিদুল ইসলাম, তানজির আলম, তাঁদের বাবা খোরশেদ আলম, সাইফুল ইসলাম এবং ফরহাদ হোসেন। এছাড়াও আরও তিন থেকে চারজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তৌহিদ ধারালো অস্ত্র দিয়ে কাউছারকে জখম করেন। তৌহিদের বিরুদ্ধে হত্যাসহ মোট সাতটি মামলা রয়েছে, যার সবকটিতেই তিনি জামিনে ছিলেন। তানজিরের বিরুদ্ধেও একটি মামলার তথ্য মিলেছে। মামলা দায়ের নিয়ে থানায় হট্টগোল: ‘দরকার হইলে আমরা এমপি-মন্ত্রীরে আনামু’। তবে তাঁর ভাইয়ের করা মামলার এজাহারে তৌহিদ, তাঁর ভাই ও বাবাসহ পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে কাউছারকে কোপানো ও ছুরিকাঘাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে কবির হোসেন উল্লেখ করেন, তাঁর ছোট ভাই আবু কাউছার কাপ্তান বাজার এলাকায় তাঁর বন্ধু শামীম হোসেন, হেলাল উদ্দিন ও গোলাম রসুলের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করছিলেন। অন্য একটি অটোরিকশায় ছিলেন হেলাল উদ্দিন, আরমান, আবদুল বারেক ও ইসমাইল। আগেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থান, ঘটনাস্থলে পৌঁছার পরই কাউছারকে কুপিয়ে হত্যা।

জমির মালিকানা নিয়ে মামলার এজাহার ও পুলিশের তথ্যে ভিন্নতা রয়েছে। কবির হোসেনের এজাহার অনুযায়ী, কাউছারের ব্যবসায়িক সহযোগী শামীম হোসেন আইনজীবী মিজানের কাছ থেকে গোমতী নদীর চরের ৮-১০ কানি জমি ইজারা নিয়ে সেখানে ঘাস চাষ করছিলেন। জমির সামনে কফি হাউস নির্মাণকে ঘিরে বিরোধের শুরু হয়। বিপরীতে, জেলা পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে ওই জমি পানি উন্নয়ন বোর্ডের মালিকানাধীন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। কয়েক দিন আগে শামীম গোমতী নদীর উত্তর পাড়ের চরে ৮ থেকে ১০ কানি জমি ইজারা নেন।

তদন্তকারী পুলিশ ও এসআরবি-১১-এর দাবি, এই হামলার ঘটনাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। কাউছারসহ তাঁর সহযোগীরা নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছানোর পরপরই আসামিরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালান। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা দুটি মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যান। মূল অভিযুক্ত তৌহিদ ও তাঁর ভাই তানজিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি তৌহিদুল আনোয়ার। কাউছার হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবিতে গত শনিবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন করে কুমিল্লা জেলা পুলিশ ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১১। জনতার হাতে ধরা পড়লেন মূল অভিযুক্ত, জামায় ছিল রক্তের দাগ।

শেয়ার করুন