রাষ্ট্রের সংকট সমাধানে তরুণদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে: রিজভী

প্রকাশ:

দেশের বিদ্যমান সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় নানাবিধ সংকট উত্তরণে তরুণ প্রজন্মের দৃষ্টিভঙ্গি, জিজ্ঞাসা এবং উদ্ভাবনী চিন্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের মুজাফ্‌ফর আহমদ চৌধুরী মিলনায়তনে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ) আয়োজিত ‘আইডিয়া ফেস্ট ২০২৫’-এর চূড়ান্ত পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। রিজভী বলেন, তরুণদের স্বাধীনভাবে প্রশ্ন করার সুযোগ দিতে হবে; কারণ তাদের অনুসন্ধিৎসু মন থেকে নতুন নতুন ধারণা ও সমাধানের পথ বেরিয়ে আসা সম্ভব। তরুণদের শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে গঠনমূলক সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় আলোচনার চর্চা বাড়াতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও কর্তৃত্ববাদী শাসন

বিশ্ববিদ্যালয়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে দেশে গণতান্ত্রিক পরিসর সংকুচিত হয়ে পড়েছিল। ওই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্বাধীনভাবে কথা বলা এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন ছিল। এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশের সুযোগ ছিল না। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে একনায়কতন্ত্র বা সামরিক শাসন থাকলেও সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কিছুটা স্বায়ত্তশাসন ও কথা বলার অধিকার বজায় থাকে, কিন্তু শেখ হাসিনার আমলে সেই ন্যুনতম সুযোগটুকুও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও দেশের তরুণরা তাদের মেধা ও মুক্তচিন্তার চর্চা অব্যাহত রেখেছেন। এখন পরিবর্তিত স্বাধীন পরিবেশে তাদের এই মেধাকে জাতীয় উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে।

জেডআরএফ-এর ভূমিকা ও তরুণদের দায়বদ্ধতা

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করে রিজভী বলেন, প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশেও সংগঠনটি সামাজিক, মানবিক ও সেবামূলক কার্যক্রম বন্ধ করেনি। অতীতে ভার্চুয়াল বিজ্ঞান মেলার আয়োজন এবং কোভিড-১৯ মহামারি ও ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাবের সময় জনস্বাস্থ্য বিষয়ক বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে ফাউন্ডেশনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আইডিয়া ফেস্টের মতো আয়োজন তরুণদের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটিয়ে ভবিষ্যতে নতুন সম্ভাবনার পথ তৈরি করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতামত ও অংশগ্রহণ

  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ পুরোপুরি নির্ভর করছে তরুণদের সৃজনশীল চিন্তা, সাহসী প্রশ্ন এবং বাস্তব সমস্যার কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করার দক্ষতার ওপর। শিক্ষার মান উন্নয়নে গবেষণা ও উদ্ভাবনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
  • জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার জানান, সংগঠনটি ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টি, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞান বিস্তারে কাজ করছে।
  • আইডিয়া ফেস্টের চূড়ান্ত পর্বে সাতটি দল কৃষি, স্বাস্থ্য ও বাণিজ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে নিজেদের উদ্ভাবনী প্রস্তাবনা তুলে ধরে।
  • অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আবদুস সালাম, সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী এবং ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক লুৎফর রহমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতিত্ব করেন আইডিয়া ফেস্ট আয়োজন কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক সোহাগ আউয়াল। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তরুণদের এমন সব বাস্তবমুখী ধারণা বের করে আনা হচ্ছে, যা জাতীয় বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। তরুণদের এই সৃজনশীলতা ও উদ্যমকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারলে দেশ এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে বক্তারা আশা ব্যক্ত করেন।

শেয়ার করুন