নিউ ইয়র্কে চলমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগদানের মধ্যদিয়ে এক অনন্য রেকর্ডের সঙ্গী হলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে প্রথমবারের মতো বিশ্বসংস্থার এই উচ্চ পর্যায়ের মঞ্চে অংশ নিয়ে তিনি দেশের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় যুক্ত করলেন। তারেক রহমানের বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালে প্রথমবার জাতিসংঘ অধিবেশনে অংশ নিয়েছিলেন। এর ঠিক তেরো বছর পর ১৯৯৩ সালে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সরকারপ্রধান হিসেবে একই মঞ্চে প্রথম ভাষণ দেন। এবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জিয়া পরিবারের বড় সন্তান তারেক রহমান জাতিসংঘের এই গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে যোগ দিলেন।
অধিবেশনের আনুষ্ঠানিকতা গত ৮ই সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হলেও উচ্চ পর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক পর্বের সূচনা হয় ২২শে সেপ্টেম্বর। এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় সভাপতিত্ব করছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, যিনি গত ২রা জুন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে ৯৯ ভোট পেয়ে এই দায়িত্ব লাভ করেছেন। মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ মহাসচিবের আয়োজিত প্রাতঃরাশে অংশ নেন। এছাড়া অধিবেশন চলাকালীন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গে তার সৌজন্য সাক্ষাতের কর্মসূচিও রয়েছে। অধিবেশন কক্ষে বাংলাদেশের আসন ছিল সামনের সারিতে। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে এসময় উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, শামা ওবায়েদ, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।
তারেক রহমানের আসন্ন ভাষণের মধ্যদিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সঙ্গে জিয়া পরিবারের চার দশকেরও বেশি সময়ের সম্পর্কের নতুন মাত্রা যোগ হবে। আগামী বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্ক সময় বিকালে তিনি সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন। প্রথা অনুযায়ী তিনি নিজের মাতৃভাষা বাংলায় বক্তব্য রাখবেন। উল্লেখ্য যে, শ্রীলঙ্কার বন্দরনায়েকে পরিবার এর আগে বিশ্বমঞ্চে তিন সদস্যের অংশগ্রহণের নজির গড়েছিল, আর এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো জিয়া পরিবারের নাম।
১৯৮০ সালের ২৬শে আগস্ট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রথমবার সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দেন। পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালের ১লা অক্টোবর বেগম খালেদা জিয়া প্রথমবার ৪৮তম অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত মোট পাঁচবার তিনি সাধারণ পরিষদের কার্যক্রমে অংশ নেন। এর মধ্যে ১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, ২০০২ সালে শিশুবিষয়ক ২৭তম বিশেষ অধিবেশন এবং ২০০৫ সালের ৬০তম অধিবেশন উল্লেখযোগ্য।
সোমবার সন্ধ্যায় নিউ ইয়র্ক পৌঁছানোর পর থেকেই প্রধানমন্ত্রীর কর্মব্যস্ততা শুরু হয়। সফরের শুরুতে সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে নিয়ে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে প্রাতঃরাশে অংশ নেন তিনি। উচ্চ পর্যায়ের বিতর্কের প্রথম দিন ডনাল্ড ট্রাম্প এবং লুলা দ্য সিলভাসহ ১৩ দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ভাষণ দেন। সেই ধারায় বৃহস্পতিবার নিজের প্রথম ভাষণে বিশ্বদরবারে দেশের অবস্থান তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: উল্লেখ্য, এর আগে এই উপমহাদেশের শ্রীলঙ্কা থেকে একই পরিবারের ৩ জন সরকার প্রধান হিসেবে জাতিসংঘের অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রধানমন্ত্রী আর ডি বন্দরনায়েকে, তার স্ত্রী শ্রী মাভো বন্দরনায়েকে ও কন্যা চন্দ্রিকা বন্দনায়েকে।
সূত্র: মানবজমিন








