পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে শ্রীমন্ত নদীর ওপর নির্মাণাধীন কাঁঠালতলী ও রামপুর সেতুর সংযোগ সড়কের গাইড ওয়ালে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। প্রায় সাড়ে ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের কাজ হস্তান্তর হওয়ার আগেই এমন বিপর্যয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে। ভাঙা অংশ সংস্কারের পরিবর্তে বালুর বস্তা দিয়ে দায়সারাভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে স্থানীয়দের আশঙ্কা।
প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা যায়, জাইকার অর্থায়নে ২০২০-২১ অর্থবছরে এই সেতু নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করা হয়। বরিশাল এমএম বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড ও মেসার্স আমির ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন যৌথভাবে ৬ কোটি ৬৪ লাখ ৯০ হাজার ৭৬ টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পের কাজ পায়। জনগুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন অন্তত ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ লক্ষাধিক মানুষ চলাচল করে। সেতুর মূল অংশের কাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
মাধবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পলাশ হাওলাদার অভিযোগ করেন, ছয় বছরেও ঠিকাদার কাজটি শেষ করতে পারেনি। বর্তমানে সংযোগ সড়কের নিচের গাইড ওয়াল ও খুঁটি বালুর বস্তার চাপে ভেঙে যাচ্ছে, কিন্তু ঠিকাদার ভাঙা অংশ মেরামতের তোয়াক্কা না করে কোনোমতে ঠেস দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা মাওলানা আমিনুল ইসলাম দাবি করেন, নির্মাণে অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি ঢালাই করার সময় রড বেরিয়ে আসার মতো ঘটনাও ঘটেছে এবং সংযোগ সড়কের কাজের হিসাব নিয়ে ঠিকাদারের প্রতিনিধিরা কোনো স্পষ্ট তথ্য দিচ্ছেন না।
অটো রিকশাচালক জসিম উদ্দিন জানান, সিমেন্ট ও বালুর সঠিক মিশ্রণ ছাড়াই পাটের বস্তায় ভরে তা গাইড ওয়ালের দুই পাশে ফেলা হচ্ছে। এ বিষয়ে ঠিকাদারের প্রতিনিধি আব্দুল কাদের জানান, তিনি মূল ঠিকাদারের কাছ থেকে সাব-কনট্রাক্টে কাজটি বাস্তবায়ন করছেন। তার ভাষ্যমতে, এলাকাটি অনেক উঁচু হওয়ায় মাটির চাপে গাইড ওয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে, তবে বস্তা দিয়ে ঠেস দেওয়ায় কোনো বড় সমস্যা হবে না।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইটের খোয়া, বালু ও সিমেন্টের সঠিক অনুপাত অনুসরণ না করায় নির্মাণের শুরুতেই এই ধসের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বারবার বাধা দিলেও শ্রমিকরা তা কর্ণপাত করছেন না। প্রকল্পের সার্বিক পরিস্থিতি এবং অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সদ্য যোগদানকারী উপজেলা প্রকৌশলী মো. আতিকুর রহমান ফাটল ও ধসের বিষয়টি স্বীকার করলেও বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেননি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রায় লক্ষাধিক মানুষের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এ সেতুটি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেতুর তদারকির দায়িত্বে রয়েছে উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ভাঙা অংশকে টিকিয়ে রাখতে যেনতেনভাবে বালুর বস্তা দিয়ে ঠেস দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গাড়িতে এনে গাইড ওয়ালের খুঁটিগুলো মাটিতে রাখার সঙ্গে সঙ্গে ঢালাই ভেঙে রড বের হতে দেখা গেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আতিকুর রহমান বলেন, ‘আমি এখানে কয়েক দিন আগে যোগদান করেছি।’।
সূত্র: দৈনিক আমার দেশ








