রাজধানীতে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া সন্ত্রাসী হামলা, ভাঙচুর ও দখলবাজির বিভিন্ন ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সোমবার মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার পরিদর্শনের সময় তিনি সাংবাদিকদের কাছে চলমান এসব বিশৃঙ্খলার কড়া সমালোচনা করেন।
এ সময় ইসিবি চত্বরে এক ‘জুলাই যোদ্ধার’ স্টুডিওতে হামলার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সেখানে হামলা চালিয়ে সবকিছু গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, অথচ এখন এটিকে চাঁদা দাবির ঘটনা নয় বলে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, যদি জমি নিয়ে কোনো বিরোধ থেকেও থাকে, তবে মধ্যরাতে গিয়ে এমন ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর আইনত কোনো সুযোগ আছে কি? ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের গুন্ডামি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুনির্দিষ্ট পন্থা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কারও ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক সম্পদে সন্ত্রাসী ও গুন্ডাদের এমন তাণ্ডব চালানোর কোনো সুযোগ নেই।
ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রশ্রয় ছাড়া দুর্বৃত্তরা এমন ভয়াবহ কর্মকাণ্ড চালানোর সাহস পায় না। একদিকে সরকার জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, অন্যদিকে ডাক্তার ও নার্সসহ সাধারণ মানুষ বিভিন্ন জায়গায় লাঞ্ছিত হচ্ছেন। এছাড়া মোহাম্মদপুরে প্রকাশ্য দিবালোকে অস্ত্র প্রদর্শন করে বাড়ি দখলের চেষ্টার ঘটনার সমালোচনা করে তিনি সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, অপরাধী যেই দলেরই হোক—এমনকি যদি আমার দলেরও কেউ হয়—আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচিত হবে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া। কোনো অপরাধের পেছনে দলীয় রং না লাগিয়ে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করার ওপর তিনি জোর দিয়েছেন।
সূত্র: দৈনিক আমার দেশ








