মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্যাট্রিয়ট মিসাইল ও রণতরীর সংখ্যা বাড়াচ্ছে

প্রকাশ:

ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই সৌদি আরব এবং কাতারে অতিরিক্ত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারি ও ইরানে হামলার সম্ভাবনার আলোচনার পরপরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে একটি অতিরিক্ত প্যাট্রিয়ট ব্যাটারি পাঠানো হয়েছে দেশটির প্রধান জ্বালানি স্থাপনা সুরক্ষায়। একই উদ্দেশ্যে কাতারের একটি প্রাকৃতিক গ্যাস স্থাপনায় আরও একটি ব্যাটারি মোতায়েন করা হয়েছে। প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ও বিশ্বজুড়ে এর চাহিদার কারণে এই মোতায়েন কৌশলগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে ফের হামলা চালানোর সম্ভাবনা বিবেচনা করছেন- এমন বক্তব্যের পরই এই মোতায়েনের খবর সামনে এলো।

সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকলেও ইরানের পাল্টা হামলার ঝুঁকি বিবেচনায় তারা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল। অতীতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছিল। এছাড়া সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধা ও ইরাকভিত্তিক শিয়া মিলিশিয়াদের হামলার ঝুঁকিতে থাকায় রিয়াদ বাড়তি নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা বোধ করছে। এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বৃহস্পতিবার তেহরানকে সতর্ক করে বলেছেন, ইরানকে একটি ‘ন্যায্য চুক্তি’ করতে হবে, অন্যথায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হচ্ছে। প্রায় ১০ হাজার মেরিন সেনাসহ তিনটি উভচর জাহাজের সমন্বয়ে গঠিত ইউএসএস মাকিন আইল্যান্ড অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপ সোমবার যাত্রা শুরু করেছে। এর আগে গত রোববার ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট বিমানবাহী রণতরী ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো বন্দর ত্যাগ করেছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ ও ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন মোতায়েন রয়েছে। থিওডোর রুজভেল্ট ওই অঞ্চলে পৌঁছালে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর সংখ্যা দাঁড়াবে তিনটিতে, যা ২০২৬ সালের এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ সংখ্যা।

শেয়ার করুন