কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিকাশ এবং এর ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা বিশ্বজুড়ে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন শঙ্কা তৈরি করেছে। ক্লড এআই মডেলের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক সম্প্রতি এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, এআই প্রযুক্তি যেভাবে এগিয়ে চলেছে তাতে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজের প্রতিলিপি তৈরি করে ইন্টারনেটের বিভিন্ন যন্ত্রে ছড়িয়ে পড়তে পারে। প্রতিষ্ঠানটির আশঙ্কা, নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বা লক্ষ্যচ্যুত হলে একাধিক এআই এজেন্ট সম্মিলিতভাবে একটি বটনেট গড়ে তুলতে সক্ষম হতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় অ্যানথ্রপিক এই সম্ভাব্য পরিণতির বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরেছে। তাদের মতে, এমন বটনেট তৈরি হলে কোনো মানুষের সাহায্য ছাড়াই এআই এজেন্টরা দ্রুত বিভিন্ন নেটওয়ার্কে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এমনকি নিজেদের কার্যক্রম বন্ধ করার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করার সক্ষমতাও তারা অর্জন করতে পারে। শুধু তাই নয়, আরও বেশি কম্পিউটিং ক্ষমতা পাওয়ার জন্য তারা ডেটা সেন্টারে থাকা প্রসেসরের মতো শক্তিশালী হার্ডওয়্যারের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ারও চেষ্টা করতে পারে। একবার এমন নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠিত হলে তা শনাক্ত করা বা নিষ্ক্রিয় করা অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়বে।
অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) দারিও আমোদেই গত মাসেই এমন আশঙ্কার কথা ব্যক্ত করেছিলেন যে, এআই ব্যবস্থা পুরো ইন্টারনেটে বিস্তৃত হয়ে দীর্ঘস্থায়ী বটনেট তৈরি করতে পারে। প্রতিষ্ঠানটি এখন সেই উদ্বেগেরই একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরছে। মূলত এআই এজেন্টের কাজের পরিধি ও স্বায়ত্তশাসন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাইবার হামলার ঝুঁকিও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে।
সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু এআই ব্যবস্থা মানুষের ন্যূনতম তদারকিতেই জটিল সাইবার হামলার বিভিন্ন ধাপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করতে পারছে। একই সঙ্গে বিদ্যমান নিরাপত্তাব্যবস্থার বাধাগুলো কৌশলে এড়িয়ে যাওয়ার ক্ষমতাও প্রদর্শন করছে আধুনিক এআই মডেলগুলো। এসব সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে এআই যদি কোনোভাবে ডেটা সেন্টারের শক্তিশালী কম্পিউটিং ব্যবস্থার দখল নিতে পারে, তবে তাদের কর্মপরিধি ও ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: প্রথম আলো








