ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চলমান সিরিজের পঞ্চম ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ভারতের স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন অভিজ্ঞ পেসার ভুবনেশ্বর কুমার। নিউজিল্যান্ড সফরের আগেই এই গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে তাঁর অন্তর্ভুক্তি ভারতীয় দলের বোলিং লাইনআপে নতুন অভিজ্ঞতার যোগান দেবে। প্রায় চার বছর আগে ২০২২ সালের নভেম্বরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপিয়েছিলেন ৩৬ বছর বয়সী এই ডানহাতি পেসার।
দলে ভুবনেশ্বরের ফেরার নেপথ্যে বড় ভূমিকা রেখেছে তাঁর আইপিএল পারফরম্যান্স। ২০২৬ সালের আইপিএলে দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন এই বোলার। ১৬টি ম্যাচ খেলে ২৮ উইকেট শিকার করে তিনি টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহক হয়েছিলেন। এই ধারাবাহিক ফর্মই তাঁকে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও আন্তর্জাতিক আঙিনায় ফেরার সুযোগ করে দিয়েছে। গত সপ্তাহে বেঙ্গালুরুর সেন্টার অব এক্সিলেন্সে ফিটনেস পরীক্ষা দিয়ে নিজেকে প্রস্তুত করেছেন তিনি। এছাড়া সেপ্টেম্বরে উত্তর প্রদেশের ইউপি টি-টোয়েন্টি লিগে খেলে বোলিংয়ে ওয়ার্ক লোডও বাড়িয়েছিলেন এই তারকা। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে টানা দুটি শিরোপাজয়ী মৌসুমে ভালো খেলেন। ২০২৬ সালের আইপিএলে ১৬ ম্যাচে ২৮ উইকেট নেন ভুবনেশ্বর। তাঁর ওপরে ছিলেন ‘পার্পল ক্যাপ’জয়ী কাগিসো রাবাদা।
তবে দলের নিয়মিত পেসার অর্শদীপ সিংয়ের চোট ভারতের টিম ম্যানেজমেন্টকে কিছুটা দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে হায়দরাবাদে ব্যাটিংয়ের সময় অর্শদীপের কাঁধে চোট লাগে। বিসিসিআই এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ম্যাচের ঠিক আগে তাঁর খেলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অর্শদীপের চোটের অবস্থা মূল্যায়ন করেই টিম ম্যানেজমেন্ট চূড়ান্ত পরিকল্পনা সাজাবে। চলতি সিরিজে এখন পর্যন্ত ৪ ম্যাচ খেলে ৫ উইকেট নিয়েছেন এই বাঁহাতি পেসার। অর্শদীপ খেলতে না পারলে তাঁর অনুপস্থিতিতে বোলিং বিভাগে ভুবনেশ্বরের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
টিম ইন্ডিয়ার পেস বোলিং আক্রমণ নিয়ে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। অর্শদীপ ও ভুবনেশ্বর ছাড়াও দলে বিশেষজ্ঞ পেসার হিসেবে রয়েছেন মায়াঙ্ক যাদব ও প্রিন্স যাদব। এছাড়া অলরাউন্ডার নীতীশ কুমার রেড্ডি ও শিবম দুবেও পেস বোলিংয়ের বিকল্প হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারেন। এর বাইরেও ওয়ানডে দলের বোলিং বিভাগ নিয়ে নির্বাচকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ আছে, বিশেষ করে প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা ও হর্ষিত রানাদের ফিটনেস নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। খেলোয়াড়দের ওয়ার্ক লোড ম্যানেজমেন্ট এখন টিম ইন্ডিয়ার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
ক্রিকইনফো জানিয়েছে, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শেষ হওয়ার আগেই কিছু খেলোয়াড়কে দল থেকে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে, যাতে তাঁরা পরবর্তী দুই টেস্টের প্রস্তুতি নিতে পর্যাপ্ত সময় পান। অন্যদিকে, ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার এই অর্থনৈতিক বৈষম্য নিয়েও কথা বলেছেন ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান নির্বাহী। তিনি উল্লেখ করেছেন, ভারত দুই থেকে তিন কোটি ডলারের রাজস্ব পেলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রাপ্তি বলতে কার্যত কিছুই নেই। এখন দেখার বিষয়, সব চ্যালেঞ্জ ও সমীকরণ ছাপিয়ে সিরিজ নির্ধারণী এই ম্যাচে ভুবনেশ্বরের ফেরা কতটা কার্যকর হয়। ভারত পাচ্ছে ২-৩ কোটি ডলার, আমরা কিছুই না—বললেন ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান নির্বাহী। হাসানকে যেভাবে বোকা বানালেন মুশফিক–মুশতাকরা।
সূত্র: প্রথম আলো








