কলকাতার অতি ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক রেড রোডে নিরাপত্তা ও যানজটের কারণ দেখিয়ে ঈদের নামাজের অনুমোদন না দেওয়া হলেও দুর্গাপূজা কেন্দ্রিক আয়োজনে টানা চার দিন গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। স্বল্প সময়ের ধর্মীয় জামাতে আপত্তি জানিয়ে বড় অনুষ্ঠানগুলোর জন্য দিনের পর দিন রাস্তা আটকে রাখাকে বৈষম্যমূলক নীতি হিসেবে দেখছেন সমালোচকেরা। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে সাধারণ মানুষের চলাচল ও দৈনন্দিন কাজে ভোগান্তি তৈরি হয়।
দুর্গাপূজার মহালয়া উপলক্ষ্যে বিশেষ সাজসজ্জা, মঞ্চ নির্মাণ ও তিন হাজার ঢাকির পারফর্ম্যান্সসহ নানান অবকাঠামো তৈরির জন্য রেড রোড বন্ধের এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দের জারি করা নির্দেশ অনুযায়ী, ৬ অক্টোবর রাত ১০টা থেকে উক্ত সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও বন্ধের পদক্ষেপ নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ৯ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে ১০ অক্টোবর গভীর রাত কিংবা ১১ অক্টোবর ভোর পর্যন্ত সড়কটিতে যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছিল।
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৯১৯ সাল থেকে রেড রোডে নিয়মিতভাবে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। দীর্ঘদিনের এই ঐতিহ্য থাকা সত্ত্বেও এবার নিরাপত্তা ও যানজট মোকাবিলার অজুহাতে মুসলমানদের ঈদের জামাত সেখানে করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। এর বদলে ঈদের দিন মুসল্লিদের কলকাতার ময়দানে বিকল্প হিসেবে নামাজ আদায়ের নির্দেশনা দিয়েছিল প্রশাসন। সমালোচকদের মতে, যানজট ও নিরাপত্তার যুক্তি যদি ঈদের জামাত বন্ধের কারণ হয়, তাহলে অন্য বড় আয়োজনের ক্ষেত্রেও একই মানদণ্ড প্রয়োগ করা উচিত। তবে বড় আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তের বিপরীতে ঈদের জামাতের অনুমতি না দেওয়ার বিষয়টি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সমালোচকদের বক্তব্য, মাত্র এক ঘণ্টার একটি ধর্মীয় জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও বড় বড় অনুষ্ঠান ও তার প্রস্তুতির জন্য বছরের বিভিন্ন সময়ে সড়কটি দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ রাখা হচ্ছে। এর আগে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষ্যেও রেড রোড টানা সাত দিন বন্ধ রাখা হয়েছিল। সেই আয়োজনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এসে সড়কের ওপর নির্মিত বিশাল মঞ্চে অংশ নেন, যেখানে তাঁর পাশে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও তৎকালীন রাজ্যপাল।
রাজভবন, বিধানসভা ও কলকাতা হাইকোর্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কেন্দ্রের সংযোগকারী হিসেবে রেড রোড শহরের অন্যতম প্রধান সড়ক। এত গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ দিনের পর দিন বন্ধ রাখায় জনভোগান্তি বাড়লেও ঈদের মতো সংক্ষিপ্ত একটি জামাতে সম্মতি না দেওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা ও দ্বৈত মানদণ্ড নিয়ে নতুন করে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
সূত্র: দৈনিক আমার দেশ








