ট্রাম্প |: শিগগিরই কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে, কেন

প্রকাশ:

ইরানের সঙ্গে এই মুহূর্তে ওয়াশিংটনের কোনো ধরনের আলোচনা কিংবা কূটনীতি চলমান নেই বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে আনুষ্ঠানিক কোনো বৈঠক না থাকলেও অত্যন্ত দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন কিছু ঘটতে যাচ্ছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। বুধবার দক্ষিণ ক্যারোলাইনার একটি প্রচার সমাবেশ শেষে ফেরার পথে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর নতুন মোড়

সমাবেশ পরবর্তী ওই সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটন সরাসরি কোনো আলোচনায় যুক্ত আছে বলে তিনি মনে করেন না। কিন্তু পুরো পরিস্থিতিতে খুব শিগগিরই বড় ধরনের পরিবর্তন বা অগ্রগতি দেখা যাবে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণাকে উদ্ধৃত করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট উল্লেখ করেন, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই এই সংঘাতের ভবিষ্যৎ নির্ধারণী পদক্ষেপগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে। তিনি আরো বলেন, ‘বেশিরভাগ মানুষ মনে করছেন, এটা মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ঘটবে।

দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের লক্ষ্য ওয়াশিংটনের

এর আগে দক্ষিণ ক্যারোলাইনার মূল সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার সময় ট্রাম্প বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন।

তিনি জোর দিয়ে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত বাহিনীগুলো ইতিমধ্যেই সামরিক দিক থেকে এবং অর্থনৈতিকভাবে তেহরানকে পুরোপুরি পর্যুদস্ত করে ফেলেছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে ইরানকে কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক শক্তি অর্জন করতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, মার্কিন প্রশাসন চাইলে এই মুহূর্তেই সামরিক লড়াইয়ের সমাপ্তি টানতে পারে, কিন্তু তারা স্থায়ী একটি পরিণতি নিশ্চিত করার পক্ষে। কেবল সাময়িক বিরতি না নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতেই ওয়াশিংটন কৌশলী ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না। আমরা এখনই চলে যেতে পারি, কিন্তু আমরা নিশ্চিত করতে চাই, যেন এটি দীর্ঘ সময় স্থায়ী হয়।’।

মার্কিন ও ইসরাইলি সামরিক প্রস্তুতি

  • নতুন হামলার ছকমার্কিন প্রভাবশালী দৈনিক দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর ইরানি লক্ষ্যবস্তুগুলোতে নতুন করে যৌথ বিমান হামলা ও সামরিক অভিযানের রূপরেখা চূড়ান্ত করেছে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব।
  • চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষাসংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের বরাতে পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এই সামরিক ছকে ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত সবুজসংকেত দেবেন কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়। কারণ চলতি বছরের পূর্ববর্তী একাধিক বড় ধরনের সামরিক অভিযানের প্রস্তাবে তিনি নিজে ভেটো দিয়ে তা বাতিল করেছিলেন।

সংঘাতের প্রেক্ষাপট ও হরমুজ প্রণালির স্থবিরতা

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের ওপর ব্যাপক সামরিক আক্রমণ শুরু করার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে পূর্ণাঙ্গ সংঘাতের সূচনা হয়। এর জবাবে ইরানের সামরিক বাহিনীও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ও ইসরাইলি ঘাঁটিতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এই পাল্টা আক্রমণের ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল থমকে যায়। পরবর্তীতে জুন মাসে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দু’পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও হরমুজ প্রণালির উন্মুক্ত চলাচল নিয়ে মতবিরোধের কারণে সেই শান্তি প্রক্রিয়া চূড়ান্ত রূপ পায়নি।

শেয়ার করুন