যুক্তরাজ্যে প্রবেশের অনুমতি হারিয়েছেন সুইডেনের লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও জলবায়ু কর্মী আন্দ্রেয়াস মালম। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার তার ‘ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন’ (ইটিএ) বাতিল করেছে। দেশটির সরকারের ভাষ্যমতে, যুক্তরাজ্যে মালমের উপস্থিতি জনস্বার্থের জন্য অনুকূল নয়। এ বিষয়ে ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে একটি ই-মেইল বার্তার মাধ্যমে বিষয়টি তাকে জানানো হয়েছে।
আগামী সপ্তাহে লন্ডনে ব্রিটিশ সমাজতান্ত্রিক সাময়িকী ট্রিবিউন আয়োজিত একটি প্যানেল আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল মালমের। ওই আয়োজনে প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের সহপ্রতিষ্ঠাতা হুদা আম্মোরিও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। কয়েক দশক ধরে নিয়মিত যুক্তরাজ্যে যাতায়াত করলেও এবার কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই তার ভ্রমণের অনুমতি বাতিল করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের কারণ জানতে চেয়ে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের কাছে ব্যাখ্যা চাইলেও এখন পর্যন্ত কোনো জবাব পাননি তিনি।
বাতিলের ওই ইমেইলে তাকে নতুন করে ভিসার আবেদন করতে বলা হয়েছে। তবে যুক্তরাজ্যের সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ভিজিটর ভিসা পেতে প্রায় তিন সপ্তাহ সময় লাগে, ফলে নির্ধারিত আলোচনায় তার অংশগ্রহণ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আন্দ্রেয়াস মালমের ধারণা, উক্ত প্যানেল আলোচনায় অংশ নেওয়ার পরিকল্পনার কারণেই তার অনুমতি বাতিল করা হয়েছে। তিনি একে যুক্তরাজ্যে চলমান কর্তৃত্ববাদী প্রবণতার অংশ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে, কোনো অপরাধ না করেও কেবল একটি আলোচনায় অংশগ্রহণের পরিকল্পনার দায়ে তাকে এভাবে আটকে দেওয়া হয়েছে।
মালমের এই ঘটনাকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত হিসেবে দেখছেন তার সমর্থকরা। বিখ্যাত লেখিকা স্যালি রুনি তাকে একজন প্রভাবশালী বুদ্ধিজীবী হিসেবে উল্লেখ করে এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। উল্লেখ্য, গত বছর যুক্তরাজ্য সরকার প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করে। সেই সময় থেকে সংগঠনটির প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানানোর অভিযোগে এখন পর্যন্ত তিন হাজার ৮৫০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: দৈনিক আমার দেশ








