চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সাবরেজিস্ট্রার রায়হান হাবীবের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। র্যাবের কর্মকর্তা হত্যা ও ক্যাম্প ভাঙচুরের মতো গুরুতর মামলার চার্জশিটভুক্ত পলাতক আসামি ও ‘ইয়াসিন বাহিনী’র প্রধান মো. ইয়াসিনের নামে মাত্র একদিনের ব্যবধানে ৬৫টি জমির দলিল রেজিস্ট্রি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাজারমূল্যের হিসেবে এই স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় শতকোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জঙ্গল সলিমপুর এলাকার সরকারি খাস জমি কৌশলে নিজের নামে বিএস রেকর্ডভুক্ত করেছিলেন ইয়াসিন। আইন মন্ত্রণালয়ের একটি অভ্যন্তরীণ সূত্র দাবি করেছে, এই দলিলগুলো পাকাপোক্ত করতে সাবরেজিস্ট্রার প্রায় দুই কোটি টাকা ঘুস নিয়েছেন। এমন গুরুতর অভিযোগের পর আইন মন্ত্রণালয় তার বদলির আদেশ স্থগিত করেছে। বর্তমানে জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপার কার্যালয় এবং আইন মন্ত্রণালয় এই অনিয়মের সত্যতা নিশ্চিত করতে তদন্ত চালাচ্ছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এত বিপুল পরিমাণ দলিল একদিনে রেজিস্ট্রি হওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশি খাতায় পলাতক আসামি ইয়াসিন দলিল সম্পাদনার সময় সশরীরে উপস্থিত ছিলেন কি না, তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে, কারণ নিয়ম অনুযায়ী দাতার উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। এছাড়া দলিলগুলোর বর্তমান বাজারমূল্য, হস্তান্তরের বৈধতা এবং এতে সরকারের কোনো স্বার্থহানি হয়েছে কি না, তা পর্যালোচনার অধীনে নেওয়া হয়েছে। বেশকিছু কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে।’।
সীতাকুণ্ড সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, জঙ্গল সলিমপুরে নিজের দখলে থাকা সরকারি জমি ইয়াসিন গত তিন মাস ধরে বিক্রির চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। গত সোমবার রায়হান হাবীবের বদলির আদেশ হয় এবং বৃহস্পতিবার তার নতুন কর্মস্থলে যোগদানের কথা ছিল। ঠিক শেষ মুহূর্তে মোটা অঙ্কের লেনদেনের মাধ্যমে তিনি এই রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করেন। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে মৌখিক অভিযোগ জানালে তার বদলি স্থগিত করা হয়। তিন মাস ধরে এসব জায়গা নানা জনের কাছে বিক্রি করার চেষ্টা করছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে সাবরেজিস্ট্রারের সহকারী সিরাজউদ্দিনের দাবি, দলিল হওয়া জমিগুলো ব্যক্তি মালিকানাধীন এবং নামজারি অনুযায়ী ইয়াসিনের নামে খাজনা আপডেট ছিল। তার ভাষ্যমতে, কাগজপত্রে কোনো ত্রুটি না থাকায় দলিলগুলো রেজিস্ট্রি দেওয়া হয়েছে এবং এ নিয়ে সরকারের বিশেষ কোনো বিধিনিষেধ ছিল না। তবে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক জানিয়েছেন, বিষয়টি মন্ত্রণালয় ও ইউএনও কার্যালয় গুরুত্বের সাথে দেখছে। পাশাপাশি ইউএনও কার্যালয়ও দেখভাল করছে। সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হিসাবে পরিচিত জঙ্গলসলিমপুর।
উল্লেখ্য, জঙ্গল সলিমপুর এলাকাটি দীর্ঘ সময় ধরে ইয়াসিন বাহিনী ও রুকন মেম্বারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গত ১৯ জানুয়ারি এক আসামি ধরতে গেলে ইয়াসিন বাহিনীর হামলায় র্যাব-৭ এর উপসহকারী পরিচালক নায়েক সুবেদার মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন। এছাড়া গত ২৪ মে নির্মাণাধীন র্যাব ও যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ইয়াসিনকে প্রধান আসামি করে তিন শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ। সেই অভিযানে প্রশাসন ১০৪ রাউন্ড গুলি চালালেও ইয়াসিন এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। গত ১৯ জানুয়ারি এক আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান চালাতে কয়েকটি মাইক্রোবাসে করে জঙ্গল সলিমপুরে প্রবেশ করে তৎকালীন র্যাবের একটি দল। সর্বশেষ গত ২৪ মে দুই থেকে ৩শ সন্ত্রাসী গভীর রাতে রাস্তা কাটে এবং নির্মাণাধীন র্যাব ও যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ ঘটনায় ইয়াসিনকে প্রধান আসামি করে ৩ শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ।
সূত্র: যুগান্তর








