নেতানিয়াহুকে পেছনে ফেলে সরকার গঠনের দৌড়ে এগিয়ে গাদি আইজেনকোট

প্রকাশ:

ইসরাইলের পরবর্তী সরকার গঠনের দৌড়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে টপকে এগিয়ে গেছেন গাদি আইজেনকোট। দেশটির আরব নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট ও রাআম পার্টি আইজেনকোটকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করার পক্ষে নিজেদের সমর্থন জানানোর চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে। হিব্রু সংবাদমাধ্যম ওয়াল্লাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জয়েন্ট লিস্টের এক জ্যেষ্ঠ নেতা এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেছেন। জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনেও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে আলোচনার সময় আরব দলগুলো আইজেনকোটের প্রতি তাদের সমর্থনের কথা জানিয়েছে।

প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ আগামী বুধবার অর্থাৎ ৪ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির কাছ থেকে চূড়ান্ত নির্বাচনের ফলাফল গ্রহণ করবেন। এরপর তিনি নিজের বাসভবনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার আয়োজন করবেন। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট রবিবার সব রাজনৈতিক দলকে এক অনুষ্ঠানে কঠোর সতর্কবাণী দিয়ে বলেছেন, নির্বাচনী ফলাফল মেনে নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে। তিনি পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন, কোনো পক্ষই যদি নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকে, তবে ইসরাইলকে পুনরায় নির্বাচনের জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। হারজগের ভাষায়, রাজনৈতিক নেতাদের উদার মনোভাব নিয়ে আলোচনায় বসতে হবে।

প্রেসিডেন্টের আহ্বান অনুযায়ী, রাজনৈতিক নেতাদের উদারতা প্রদর্শন করে বাস্তবসম্মত এবং সৃজনশীল উপায়ে সরকার গঠনের সমাধান খুঁজতে হবে। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেটের তথ্যমতে, প্রেসিডেন্ট ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার পরামর্শ প্রক্রিয়া বুধবার শুরু হতে পারে এবং এটি গড়িয়ে শুক্রবার পর্যন্ত চলতে পারে। ইসরাইলের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, ফলাফল ঘোষণার সাত দিনের মধ্যে প্রেসিডেন্টকে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা শেষ করে সরকার গঠনের জন্য কাউকে মনোনীত করতে হবে। পরস্পরের বক্তব্য শুনে মতবিনিময়ের পাশাপাশি নতুন নির্বাচন এড়াতে বাস্তবসম্মত ও সৃজনশীল সমাধান বের করতে হবে। তবে তা বৃহস্পতিবার পেরিয়ে শুক্রবার পর্যন্ত চলার সম্ভাবনাও রয়েছে।

সাধারণত পার্লামেন্টের সদস্যদের কাছ থেকে যিনি সর্বাধিক সমর্থন বা সুপারিশ পান, তাকেই সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ অনুযায়ী গাদি আইজেনকোট এই দৌড়ে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে আছেন। প্রাথমিক হিসাব বলছে, আরব দলগুলোর সমর্থন নিশ্চিত হলে তার পক্ষে ৬০ জন আইনপ্রণেতার সুপারিশ জমা পড়তে পারে। এছাড়া চেঞ্জ ব্লকের শরিক ইসরাইল বেইতেনু দল যদি তাকে সমর্থন জানায়, তবে এই সংখ্যা বেড়ে ৬৭-তে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। আইজেনকোটের পক্ষে ৬০, নেতানিয়াহুর ৪৬।

অন্যদিকে, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পক্ষে লিকুদ, ওতজমা ইহুদিত, শাস এবং রিলিজিয়াস জায়োনিজম পার্টি থেকে মোট ৪৬টি সুপারিশ আসার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমের সাতটি আসনের সমর্থন কোন দিকে যাবে, তা এখনো ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছে; দলটি সম্ভবত রাজনৈতিক আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখবে।

তবে প্রেসিডেন্টের কাছে সর্বোচ্চ সংখ্যক সুপারিশ পাওয়া মানেই সরকার গঠন নিশ্চিত নয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাকে পরবর্তী ধাপে বিভিন্ন দলের সঙ্গে কঠোর সমঝোতা করে জোট সরকার গঠন করতে হবে। একই সঙ্গে ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেটে আস্থা ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা হবে যেকোনো মনোনীত প্রার্থীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

শেয়ার করুন