উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) ভুক্ত প্রতিবেশী দেশগুলোর পর্যটকদের কাছে ভ্রমণের শীর্ষ গন্তব্য হিসেবে কাতার এখন এক অনন্য নাম। বছরব্যাপী বৈচিত্র্যময় আয়োজন, আধুনিক অবকাঠামো এবং চমৎকার আতিথেয়তার কারণে দর্শনার্থীরা দেশটিকে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রধান ‘পারিবারিক পর্যটন কেন্দ্র’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। বিশেষ করে ২০২২ সালে সফলভাবে ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনের পর থেকে পর্যটন ও নগর উন্নয়নে কাতারের ধারাবাহিক বিনিয়োগ দেশটিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
ঐতিহাসিক সুক ওয়াকিফ পরিদর্শনের সময় সৌদি আরব ও ওমান থেকে আসা পর্যটকরা দেশটির পর্যটন খাতের এই অভূতপূর্ব রূপান্তরের ভূয়সী প্রশংসা করেন। সৌদি পর্যটক মোহাম্মদ আল-জুহাইমি জানান, কাতার ঐতিহ্য ও আধুনিকতার এক চমৎকার মেলবন্ধন। তিনি বলেন, সুক ওয়াকিফ এবং কাতারা কালচারাল ভিলেজের মতো স্থানগুলো যেমন ঐতিহ্যকে ধারণ করে, তেমনি এর নিরাপদ ও পরিবার-বান্ধব পরিবেশ ভ্রমণকে স্মরণীয় করে তোলে। তিনি পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের মানুষকে কাতারের আতিথেয়তা উপভোগ করার আহ্বান জানান।
অপর সৌদি পর্যটক মোহাম্মদ ফাহদ আল-আজাবি কাতারকে এই অঞ্চলের অন্যতম নিরাপদ দেশ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, ওল্ড দোহা পোর্ট, কাতারা, দ্য পার্ল-কাতার এবং সুক ওয়াকিফ তাঁর নিয়মিত ভ্রমণের তালিকায় থাকে। এছাড়া সৌদি নাগরিক নওফল আল-কাহতানি এবং মেশাল হামাদ আল-মারি দেশটির আধুনিক হোটেল, গণপরিবহন ব্যবস্থা এবং কেনাকাটার সুবিধার প্রশংসা করেন। তারা লুসাইল বুলেভার্ড, মুশাইরেব ডাউনটাউন দোহা এবং আল সাফলিয়া দ্বীপের মতো আকর্ষণীয় স্থানগুলোকে সব বয়সের পর্যটকদের জন্য বিনোদনের চমৎকার কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করেন।
ওমান থেকে পরিবার নিয়ে আসা পর্যটক আদেল আল-শেহরি জানান, কাতার এখন তাঁদের পরিবারের নিয়মিত বার্ষিক ছুটির গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক উৎসবের পাশাপাশি মরুভূমির সাফারি এবং বিভিন্ন জলক্রীড়া সব বয়সের মানুষের হৃদয় জয় করছে। অন্যান্য ওমানি দর্শনার্থীরা ভৌগোলিক নৈকট্য, যাতায়াতের সহজলভ্যতা এবং প্রতিনিয়ত নতুন নতুন পর্যটন কেন্দ্র গড়ে ওঠাকে কাতারের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। সব মিলিয়ে নিরাপদ পারিবারিক পরিবেশ এবং বিশ্বমানের নাগরিক সুবিধার সুবাদে কাতার এখন জিসিসি অঞ্চলের পর্যটকদের সারা বছরের প্রথম পছন্দের গন্তব্য।
সূত্র: গালফ বাংলা








