নোয়াখালীতে সাত মাসে পানিতে ডুবে ৭২ শিশুর মৃত্যু: আতঙ্কে উপকূলীয় জনপদ

প্রকাশ:

নোয়াখালীর সদর উপজেলার নেয়াজপুর ইউনিয়নের দেবীপুর গ্রামের বাসিন্দা আইনজীবী আবদুর রহিমের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গত শুক্রবার বাড়ির পাশের পুকুরেই ডুবে মৃত্যু হয়েছে তার আড়াই বছর বয়সী ছেলে ইলহাম নূর ফালাকের। শিশুটি মা যখন ঘরের কাজে ব্যস্ত ছিলেন, ঠিক সেই ১০ থেকে ১৫ মিনিটের ব্যবধানে সে পুকুরঘাটে চলে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা পুকুরপাড়ে শিশুর জুতা দেখে তল্লাশি চালিয়ে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত মাত্র সাত মাসে জেলায় পানিতে ডুবে ৭২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে জেলার ৯টি উপজেলায় মোট ১৯৩টি পানিতে ডোবার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। তবে আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের তথ্য যোগ হলে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, উপকূলীয় উপজেলা হাতিয়াতে মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি, যেখানে ৫৬টি ঘটনায় ৪৩ শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। এছাড়া কোম্পানীগঞ্জে ১৪ জন, কবিরহাটে ১১ জন এবং সেনবাগে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। চাটখিল, বেগমগঞ্জ, সুবর্ণচর ও সোনাইমুড়ীতে পানিতে ডোবার ঘটনা ঘটলেও সেখানে কোনো শিশুমৃত্যুর রেকর্ড নেই।

জেলা সিভিল সার্জন মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য বিভাগ নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করলেও এটি একক কোনো দপ্তরের কাজ নয়। তার মতে, কর্মব্যস্ত মায়েদের অনুপস্থিতিতে শিশুরা যেন অরক্ষিত না থাকে, সেজন্য ডে-কেয়ার সেন্টার বা নির্ভরযোগ্য তত্ত্বাবধানের ব্যবস্থা করা জরুরি। অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় সরকার ও জেলা প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শাহনাজ আক্তার এই পরিস্থিতিকে একটি ‘নীরব মহামারি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি জানান, নোয়াখালীর ভৌগোলিক অবস্থান ও বসতবাড়ির সামনে উন্মুক্ত পুকুর থাকার কারণে শিশুরা ঝুঁকির মধ্যে থাকে। এই বিপর্যয় মোকাবিলায় অভিভাবকদের সতর্ক নজরদারির পাশাপাশি শিশুদের দ্রুত সাঁতার শেখানোর কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মনে করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আবদুর রহিম জানান, মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিট শিশুটি মায়ের নজরের বাইরে ছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, জেলার ৯ উপজেলায় পানিতে ডোবার ১৯৩টি ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এসব ঘটনায় মারা গেছে ৭২ শিশু। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দুই মেয়ের পর তাঁর সংসারে জন্ম হয়েছিল এক ছেলের। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে আগস্ট ও সেপ্টেম্ববের তথ্য গতকাল শনিবার পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অন্যদিকে চাটখিলে ৩১টি, বেগমগঞ্জে ১৮টি, সুবর্ণচরে ৮টি ও সোনাইমুড়ীতে ১টি পানিতে ডোবার ঘটনা রেকর্ড হলেও এসব উপজেলায় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।

শেয়ার করুন