প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ

প্রকাশ:

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন ইশরাক হোসেন। সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। ইশরাক হোসেন জানান, তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রী তা গ্রহণ করেছেন। এলাকায় মাদক নির্মূলসহ জনজীবনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করার জন্য তিনি স্বেচ্ছায় এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী তাকে এলাকায় গিয়ে কাজ করার অনুমতি দিয়েছেন।

সম্প্রতি রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র হাতে অংশগ্রহণ করায় ইশরাক হোসেন ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। এ ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। এই প্রেক্ষাপটে সোমবার সকালে ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দুপুরে পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। নির্ধারিত সময়ের আগেই তিনি জাতীয় প্রেস ক্লাবে উপস্থিত হন, যেখানে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী তার সাথে ছিলেন।

অভিযানের সময় অস্ত্র হাতে থাকা প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, নিরাপত্তার প্রয়োজনে তিনি অস্ত্রটি সাথে রেখেছিলেন এবং পরবর্তীকালে সেটি আর দৃশ্যমান হয়নি। অভিযানে কারো মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে বা কারো ভুল বোঝাবুঝি হলে তার জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, শুরু থেকেই তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল অপরাধীদের আইনের হাতে তুলে দেওয়া এবং আদালতের মাধ্যমে বিচারের মুখোমুখি করা। স্থানীয় বাসিন্দারা অস্ত্রধারী ও প্রভাবশালী মহলের ভয়ে মুখ খুলতে পারেন না, তাদের অভয় দিতেই তিনি অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন বলে জানান। ‘কিন্তু আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমি কোনো ভুল সেদিন করিনি। এখন, এই অবস্থায় আমি এখানে যারা ওই জায়গাতে যারা স্থানীয় বাসিন্দারা, তারা ভয়ে মুখ খোলে না বহু বছর, যারা ওখানে বাস করে কারণ এদের কাছে অস্ত্র রয়েছে, অর্থ রয়েছে এবং তারা যেকোনো কিছু করতে পারে, সে কারণে এখানকার ওইখানের স্থানীয় বাসিন্দারাও মুখ খোলে না। আমি তাদেরকে ডেকে নিয়ে আসি এবং তাদেরকে কিছুটা হলেও অভয় দেওয়ার চেষ্টা করি।’।

ইশরাক হোসেন আরো অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে পার্শ্ববর্তী আধিপত্যবাদী শক্তি মাদক সরবরাহ করছে। কাঁটাতারের বেড়া পেরিয়ে ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে মাদক প্রবেশের বিষয়টিকেও তিনি নতুন উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময়ও তিনি মাদক নির্মূলের এই দাবিটি বারবার সামনে এনেছিলেন বলে জানান। এখন থেকে তিনি সরকারি পদ ছাড়াই ঢাকা-৬ আসনসহ সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে মাদকবিরোধী ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে মনোনিবেশ করবেন। আমি উনাকে বলেছি পুরো সময়টাতে ঢাকা-৬ আসন, পার্শ্ববর্তী এলাকা, পরবর্তীতে আরও যদি এলাকা থাকে সেখানকার মাদক নির্মূল এবং আমাদের জাতীয় জনজীবনের অন্যান্য সমস্যা নিয়ে কাজ করতে চাই। তিনি বলেছেন, ঠিক আছে যাও, এলাকা ঠিক করে এলাকায় কাজ কর।’। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ফ্যাসিবাদী বিরোধী আন্দোলনের সময় বারে বারে বলেছি যে, পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মাদক প্রবেশ করানো হচ্ছে।

শেয়ার করুন