অস্ট্রেলীয় এমপিকে গাড়িচাপা দেওয়ার ঘটনা পরিকল্পিত, বলছে পুলিশ

প্রকাশ:

অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া রাজ্যের ইন্ডি আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হেলেন হেইনসকে পরিকল্পিতভাবে গাড়িচাপা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ। সোমবার মেলবোর্নের প্রায় ২০০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে ওয়াঙ্গারাটায় নিজ কার্যালয়ের সামনে ৬৫ বছর বয়সি এই সংসদ সদস্য হামলার শিকার হন। এ ঘটনার পর থেকে তিনি মেলবোর্নের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার একটি পা বিচ্ছিন্ন করতে হয়েছে বলে জানা গেছে। অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এবিসিকে তিনি বলেন, ‘এখানে যে ইচ্ছাকৃত ঘটনা ঘটেছে, তা স্পষ্ট।

অস্ট্রেলীয় ফেডারেল পুলিশ (এএফপি) ঘটনাটিকে বিচ্ছিন্ন হিসেবে চিহ্নিত করলেও, একে ‘ইচ্ছাকৃত’ অপরাধ বলে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ।

তিনি জানান, গাড়িটি ইউটার্ন নিয়ে এমপিকে দুবার ধাক্কা দেয়, যা কোনো দুর্ঘটনা নয়। এটি দুর্ঘটনা ছিল না, কিংবা কেউ গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক থেকে ছিটকে পড়েনি।’।

অভিযুক্ত ৪৩ বছর বয়সি টারাওয়িঙ্গি এলাকার এক ব্যক্তিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

পুলিশের ভাষ্যমতে, সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কমনওয়েলথের একজন সরকারি কর্মকর্তার ক্ষতিসাধনের অভিযোগ আনা হতে পারে, যার সর্বোচ্চ সাজা ১০ বছরের কারাদণ্ড। এর মধ্যে কমনওয়েলথের একজন সরকারি কর্মকর্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার অপরাধও রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, স্থানীয় নাপিত দোকানের মালিক রিকি জেফারিস দ্রুত সাড়া দিয়ে অভিযুক্তকে থামানোর চেষ্টা করেন। তিনি জানিয়েছেন, ঘটনার সময় কোনো ব্রেক কষার শব্দ ছিল না, যা পরিস্থিতির অস্বাভাবিকতাকে নির্দেশ করে। জেফারিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তের কাছ থেকে একটি ছুরি সরিয়ে নিতে সক্ষম হন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক এবিসি রেডিওকে জানান, পথচারীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতির আরও অবনতি রোধ করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আর কোনো হুমকির তথ্য তাদের কাছে নেই। অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, রিকি জেফারিস নামের এক ব্যক্তি প্রথমে ঘটনাটিকে গাড়ি দুর্ঘটনা ভেবেছিলেন। পরে তিনি নিজের নাপিতের দোকান থেকে দৌড়ে বেরিয়ে এসে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটকে ফেলেন এবং তার কাছ থেকে একটি ছুরি সরিয়ে নেন। দোকানের বাইরে সাংবাদিকদের জেফারিস বলেন, ‘আমি জোরে একটি শব্দ শুনেছিলাম। তিনি আরো বলেন, ‘শুরুতে পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পারিনি। পরে যখন বিষয়টি পরিষ্কার হয়, তখন আমি যতটা পেরেছি করেছি। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আরো জোরালো পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়ে তিনি পরিচিতি পান।

এই হামলার ঘটনা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে হেইনসের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে হুমকি ও হয়রানির ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে বলে পুলিশি নথিতে উঠে এসেছে। সাধারণ মানুষের সাথে সরাসরি যোগাযোগের জন্য পরিচিত অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিকরা সাধারণত নিরাপত্তারক্ষী ছাড়াই দৈনন্দিন কাজ করেন, তবে বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিকেরা ঐতিহাসিকভাবেই সাধারণ মানুষের কাছে সহজে পৌঁছাতে পারেন।

প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমকে জানান, অভিযুক্তের হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনো কিছু জানা যায়নি। ফেডারেল ও রাজ্য পুলিশ সম্মিলিতভাবে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ২০১৯ সালে সংসদে যোগ দেওয়া হেলেন হেইনস একজন সাবেক নার্স ও ধাত্রী। পরিবেশ সংরক্ষণ, রাজনৈতিক স্বচ্ছতা এবং দুর্নীতি দমনে সোচ্চার কণ্ঠ হিসেবে পরিচিত হেইনসকে কেন্দ্র করে এই ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য অভিযোগ নির্ধারণে ফেডারেল ও রাজ্য পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে।

শেয়ার করুন