দেশ আর তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হবে না: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রকাশ:

ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেছেন, ভবিষ্যতে কোনো অপশক্তি যেন দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার হরণ করে বাংলাদেশকে আর তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে। শনিবার প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি দেশপ্রেমিক ও গণতন্ত্রকামী মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এখন থেকে প্রতিটি মানুষের উচ্চারণ হওয়া উচিত—দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কেউ, সবার আগে বাংলাদেশ। সবকিছুর ঊর্ধ্বে তাদের কাছে বাংলাদেশ।’। পরাজিত অপশক্তির ষড়যন্ত্র থেমে থাকেনি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরবর্তী সময়ে তারা বিভিন্নভাবে সংগঠিত হয়ে দেশকে পুনরায় তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করা হয়েছিল।’। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্ম যদি ৭ নভেম্বরের প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকে, তাহলে বাংলাদেশ আর পথ হারাবে না। তবে সেই গৌরবের পতাকা সমুন্নত রেখে স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তোলা প্রতিটি প্রজন্মের দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬ উদযাপন কমিটি, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), বাংলাদেশ স্কাউটস এবং সর্বোপরি দেশের জনগণকে এ আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান।

জাতীয় ইতিহাসের ধারাবাহিকতা ও ঐক্য

প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লব, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণঅভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করে বলেন, প্রতিটি ঘটনা প্রমাণ করেছে বাংলাদেশের মানুষ জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কখনো আপস করেনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭৫ সালের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত চরম আকার ধারণ করে।

তিনি বলেন, এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করা জরুরি।

বিশেষ করে সিপাহী-জনতার বিপ্লবের চেতনা ধারণ করে প্রতিটি নাগরিককে দেশপ্রেমের মন্ত্রে উজ্জীবিত থাকতে হবে। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের গুরুত্ব ও তাৎপর্য প্রাসঙ্গিক থাকবে।’।

তিনি আরও বলেন, দেশপ্রেমিক সিপাহী-জনতা ১৯৭৫ সালে ঐক্যবদ্ধভাবে স্বাধীনতা বিরোধী ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল, যা তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি করার চক্রান্তের বিপরীতে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক ছিল।

অপশক্তির পরাজয় ও আগামীর পথচলা

তারেক রহমান বলেন, যারা বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল এবং পিলখানায় সেনা হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছিল, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে তাদের পরাজয় নিশ্চিত হয়েছে।

তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণা ও ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় তার ভূমিকা ছিল অপরিসীম। তিনি বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে প্রমাণিত হয়েছে, বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর ছিল দেশের ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ধারণের দিন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস কেবল অতীতের স্মৃতিচারণ নয়, এটি আত্মপরিচয় ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রেরণা।

বর্তমান সরকার একটি সমৃদ্ধ ও ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশ গড়ার কাজে অঙ্গীকারবদ্ধ।

তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান

তরুণদের সম্ভাবনা বিকাশের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের মধ্যেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিহিত। তিনি নতুন প্রজন্মকে জাতীয়তাবাদে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, উপদেষ্টাবৃন্দ, সংসদ সদস্য, কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধি এবং সামরিক ও বেসামরিক উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বিএনসিসি ও বাংলাদেশ স্কাউটসের সহস্রাধিক সদস্য এই ঐতিহাসিক দিবসের বিশেষ প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেন।

উৎসব ও আয়োজনের বিশেষত্ব

  • সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়।
  • বিএনসিসির ৩ হাজার ক্যাডেট এবং বাংলাদেশ স্কাউটসের ৫০০ সদস্য এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন।
  • অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী সবাইকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে।
  • তারেক রহমান বলেন, জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে আমাদের পরিচয় একটাই—আমরা বাংলাদেশি। এই ঐক্যই দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় সবচেয়ে বড় ঢাল।
  • তিনি স্পষ্ট করেন যে, বাংলাদেশ যতবারই ৭ নভেম্বরের চেতনা থেকে বিচ্যুত হয়েছে, ততবারই দেশের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়েছে।
  • ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই, যা ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সংগ্রামের সাথে তুলনীয়।
শেয়ার করুন