নাটোরের গুরুদাসপুরে পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম হত্যা মামলায় নাটোর-৪ আসনের (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের বড় ছেলে নূরুজ্জামানকে (মিন্টু) নতুন করে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার দুপুরে গুরুদাসপুর আমলি আদালতের বিচারক মেহেদী হাসান এই আদেশ প্রদান করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপপরিদর্শক শফিকুল ইসলাম আসামিকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানালে বিচারক শুনানি শেষে এই নির্দেশ দেন।
এর আগে জেলা কারাগার থেকে নূরুজ্জামানকে দুপুর ১২টার দিকে আদালতে হাজির করা হয়। রিমান্ডের আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, মামলার তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং আসামির দেওয়া তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করা জরুরি। এছাড়া হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত অন্যদের চিহ্নিত করতে এবং তাদের অবস্থান নিশ্চিত করতে আসামিকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে। বিপরীতে আসামিপক্ষের আইনজীবী গোলাম সারোয়ার ও মাহবুব হোসেন রিমান্ডের বিরোধিতা করে দাবি করেন, এর আগে তিন দিনের রিমান্ডে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, যেখানে নতুন কোনো তথ্য মেলেনি। আদালত শর্ত সাপেক্ষে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন এবং জিজ্ঞাসাবাদের আগে ও পরে আসামির ডাক্তারি পরীক্ষার নির্দেশ দেন। তিনি রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে আদালতে বলেন, তদন্তে আসামির বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তাই তাঁকে আবার রিমান্ডে দেওয়া উচিত হবে না।
তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, মামলার রহস্য উন্মোচনে তারা বেশ তৎপর এবং সন্দেহভাজনদের মধ্যে প্রবাসী রাসেল হোসাইন ও মিন্টুর বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে গত রোববার রাতে গুরুদাসপুরের নয়াবাজার এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন নীল-সাদা মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, খুনিরা এই মোটরসাইকেলটি ব্যবহার করেছিল। বর্তমানে গাড়িটির মালিকানা শনাক্ত করার কাজ চলছে এবং এর ডান পাশে থাকা আঘাতের চিহ্নগুলোও পরীক্ষা করা হচ্ছে। এদিকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। আমরা গতকাল (সোমবার) ঘটনার সময় খুনিদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি।
উল্লেখ্য, গত ১৪ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয় চাঁচকৈড় বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা পৌর ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলামের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে অতর্কিতে হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, তবে দীর্ঘ লড়াই শেষে ২৬ অক্টোবর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে পুলিশ রিমান্ড শেষে মামলার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্তকারী কর্মকর্তারা। বিএনপির এমপির ছেলেকে গ্রেপ্তার দেখাল পুলিশ। তবে চূড়ান্ত এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না।
সূত্র: প্রথম আলো








