ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ফল খাওয়ার সঠিক নিয়ম ও সতর্কতা

প্রকাশ:

ডায়াবেটিস ধরা পড়ার পর অনেকে ফল খাওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন, কারণ তারা মনে করেন ফলের মিষ্টি রক্তে সুগার বাড়াবে। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্যমতে, ডায়াবেটিস থাকলে ফল পুরোপুরি বর্জন করার কোনো প্রয়োজন নেই। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে পরিমিত পরিমাণে এবং সঠিক নিয়মে গোটা ফল খাওয়া জরুরি। রক্তে সুগার নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি কেবল একটি নির্দিষ্ট খাবারের ওপর নির্ভর করে না; বরং খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, ওজন নিয়ন্ত্রণ, ওষুধের সঠিক ব্যবহার এবং রোগের ধরনের ওপর তা নির্ভর করে।

ফলের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা

  • গোটা ফলে থাকা খাদ্যআঁশ বা ফাইবার গ্লুকোজ শোষণের গতি ধীর করে দেয়, যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে।
  • মিষ্টি বা কৃত্রিম মিষ্টান্নের বিকল্প হিসেবে পরিমিত গোটা ফল অনেক বেশি নিরাপদ।
  • পেয়ারা, জাম, আপেল, কমলা, মাল্টা, পেঁপে, নাশপাতি ও বিভিন্ন বেরি জাতীয় ফলে প্রচুর খাদ্যআঁশ ও প্রয়োজনীয় উদ্ভিজ্জ উপাদান থাকে।
  • জামবীজের গুঁড়া বা পাতার চা ডায়াবেটিসের ওষুধের বিকল্প—এমন দাবির বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

ফল খাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা

কলা, আম, কাঁঠাল বা লিচুর মতো মিষ্টি ফল একেবারে নিষিদ্ধ নয়, তবে এগুলোর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা আবশ্যক। বিশেষ করে কলা যত পাকবে, তাতে সহজে হজমযোগ্য কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ তত বাড়বে, তাই নিজের রক্তে সুগারের প্রতিক্রিয়া বুঝে ফল নির্বাচন করতে হবে। জুস বা স্মুদি এড়িয়ে গোটা ফলকে অগ্রাধিকার দিন। জুস তৈরি করলে ফলের আঁশের উপকারিতা কমে যায় এবং অল্প সময়ে শরীরে অতিরিক্ত চিনি প্রবেশ করে।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহজাদা সেলিম বলেন, দেশি ও মৌসুমি ফলকে খাদ্যতালিকায় প্রাধান্য দেওয়া উচিত। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কোনো ‘জাদুকরি খাবার’ নেই; বরং সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণই রোগ নিয়ন্ত্রণের মূল চাবিকাঠি। তাই ভয় পেয়ে ফল বাদ না দিয়ে সঠিক নিয়ম ও পরিমাণ মেনে ফল খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

শেয়ার করুন