রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের পঞ্চম চালান: গ্রিডে বিদ্যুতের অপেক্ষা

প্রকাশ:

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ইউরেনিয়ামের পঞ্চম চালান এসে পৌঁছেছে।

কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে জ্বালানি বহনকারী লরিগুলো প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের পরিকল্পনা অনুযায়ী মোট ৯টি চালানে এই জ্বালানি সরবরাহ করা হবে, যার মধ্যে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চারটি চালান এসেছিল। অবশিষ্ট চালানগুলো আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ধাপে ধাপে দেশে পৌঁছাবে। এই জ্বালানি দিয়ে দ্বিতীয় ইউনিটের প্রাথমিক ১৬৩টি ও প্রথম ইউনিটের ৪৮টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি তৈরি করা হবে। এই দফায় এখন পর্যন্ত মোট ৫টি চালান প্রকল্প এলাকায় এসে পৌঁছেছে (যার মধ্যে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ৪টি এবং আজ আরেকটি চালান আসলো)।

প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে এরই মধ্যে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, সবকিছু ঠিক থাকলে ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে বা তার আগেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে। বর্তমানে কেন্দ্রটি ২০ শতাংশ তাপীয় ক্ষমতা অর্জন করেছে। এটি ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশে পৌঁছালে উৎপাদিত বাষ্প দিয়ে টারবাইন ও জেনারেটর সচল করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। প্রাথমিকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ডিসেম্বর ২০২৬ মাসের মধ্যেই রূপপুরের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, ৫ থেকে ৬ সপ্তাহের মধ্যে (ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে বা তার আগেই) জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে।

প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন জানান, প্রতিটি ধাপ অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কারিগরি ত্রুটি বা ভাল্ব পরীক্ষার সন্তোষজনক ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশ বারবার যাচাই ও মেরামত করা হচ্ছে। বিজ্ঞানীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ধাপে ধাপে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো হবে এবং প্রথম ৬ মাসের মধ্যে প্রথম ইউনিটটি থেকে ১,১০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ পাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

২০২৩ সালের অক্টোবর মাসের শেষে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পর ২৯-৩০ অক্টোবর থেকে কেন্দ্রটির পরীক্ষার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। প্রকল্পটির দুটি ইউনিট পুরোপুরি চালু হলে জাতীয় গ্রিডে মোট ২,৪০০ মেগাওয়াট সাশ্রয়ী ও কার্বন-মুক্ত বিদ্যুৎ যুক্ত হবে, যা দেশের বিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন