সুদানের গৃহযুদ্ধে মানবিক বিপর্যয়, দাফন করলেন স্বেচ্ছাসেবকরা

প্রকাশ:

সুদানের উত্তর কোর্ডোফানের বারা শহর ও এর আশপাশের এলাকাগুলো বর্তমান গৃহযুদ্ধের কারণে মারাত্মক মানবিক সংকটে পড়েছে। আধা সামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর ধারাবাহিক হামলায় পুরো অঞ্চলজুড়ে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। যুদ্ধের তীব্রতায় বহু মানুষের জীবনহানি হলেও অলিগলি ও গ্রাম থেকে ঝুঁকি নিয়ে এ পর্যন্ত অন্তত ছয় শতাধিক সাধারণ নাগরিকের চূড়ান্ত দাফন সম্পন্ন করেছেন ৫০ জন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক। লাশের দুর্গন্ধে বিষাক্ত হয়ে উঠেছে বারা শহরের মাটি।

মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের অক্টোবরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মদদপুষ্ট আরএসএফ বারা ও আশপাশের এলাকাগুলোতে ব্যাপক হামলা ও গণহত্যা চালায়। পরবর্তীতে গত জুলাইয়ে সুদানি সশস্ত্র বাহিনী (এসএএফ) শহরটির পুনর্দখল নেওয়ার সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। উদ্ধার হওয়া মৃতদের একটি বড় অংশই ছিলেন নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিক। উদ্ধার করা এসব মরদেহের অধিকাংশই সাধারণ বেসামরিক নাগরিকদের। দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধে সুদান রূপ নিয়েছে এক মৃত্যুপুরীতে। গৃহযুদ্ধে সুদান যেন এক মৃত্যুপুরী, ৬০০ দাফন করলেন স্বেচ্ছাসেবকরা।

খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় অবশিষ্টাংশ সংগৃহীত হচ্ছে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে। তীব্র দাবদাহের মাঝে শিশু ও বৃদ্ধসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষের অবশিষ্টাংশ কুড়িয়ে পিকআপ ভ্যানে করে গণকবর দিচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবক দল। এলাকায় মারাত্মক দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি ছড়িয়ে পড়ছে নানান অজানা রোগব্যাধি। রাস্তাঘাটে এখনো পড়ে আছে অসহায় মানুষের মরদেহ। দেখা দিয়েছে অজ্ঞাত ও ভয়ানক সব রোগব্যাধি।

প্রয়োজনীয় জীবাণুনাশক, মাস্ক, গ্লাভস ও জ্বালানির তীব্র ঘাটতি সত্ত্বেও সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। বারা প্রতিরোধ কমিটির তথ্য অনুযায়ী, গেরিগিখ ও জাবরাত আল-শেখের মতো সংলগ্ন গ্রামগুলো থেকে এখনও অনেক উদ্ধারকাজ করা বাকি রয়ে গেছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের এপ্রিল মাস থেকে চলমান এই সুদান সংঘাত বর্তমান বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম মানবিক বিপর্যয় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। গৃহযুদ্ধের ফলে দেশটিতে এ পর্যন্ত অন্তত দেড় লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটেছে এবং এক কোটিরও বেশি মানুষ গৃহহীন ও বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

বর্তমানে এসএএফ বাহিনী তুরস্ক ও মিসরের সামরিক সহায়তা নিয়ে উত্তর কোর্ডোফানের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করছে। বিশ্ববাজারে বাবলা আঠা বা গাম অ্যারাবিক সরবরাহের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র পশ্চিম কোর্ডোফানের দিকে তাদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে।

অন্যদের হটিয়ে কোর্ডোফান অঞ্চলে প্রভাব ধরে রাখতে রাজধানী খার্তুম ও ওমদুরমানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে আরএসএফ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিভিন্ন ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগ থাকা সত্ত্বেও সুদান সংঘাত থামার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

প্রসঙ্গক্রমে আফ্রিকার অন্যান্য ঘটনার মধ্যে মরক্কো প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী পেয়েছে এবং বুরকিনা ফাসো সুন্দরী প্রতিযোগিতা বন্ধ রেখে বিজ্ঞান প্রতিযোগিতা চালু করেছে। এছাড়া জিবুতি উপকূলে নৌকাডুবিতে ১০৯ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী, মিসরের কায়রোতে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩ পর্যটক, এবং হারারের কাছে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় সব আরোহী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে নাইজেরিয়ায় সামরিক বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ৩২ জন এবং দাম্মাম বিমানবন্দরে হুথি হামলায় ১ জন নিহত ও ৮ জন আহত হয়েছেন। নাইজেরিয়ায় সামরিক বিমান বিধ্বস্ত, ৩২ জন যাত্রী-ক্রু’র সবাই নিহত। মোংলায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। হঠাৎ ইরান সীমান্তে ইসরাইলের ডজনখানেক যুদ্ধবিমান, নেপথ্যে কী।

শেয়ার করুন