এরদোগানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, সম্পর্ক জোরদারে জোর

প্রকাশ:

নিউইয়র্কে অবস্থানরত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় তুর্কি হাউসে আয়োজিত এই আলোচনায় দুই নেতা বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ও বহুমাত্রিক করার বিষয়ে একমত পোষণ করেন। বৈঠকে অর্থনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করা হয়।

সাক্ষাৎকালে দুই দেশ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে নিজেদের ঘনিষ্ঠ সমন্বয় ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। তারা অভিন্ন স্বার্থ ও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে পারস্পরিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্রগুলো উন্মোচনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও কার্যকর করার মাধ্যমে দুই দেশই সামনের দিনগুলোতে যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী বলে জানানো হয়।

একই দিনে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর আবাসস্থল হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্কে জাতিসংঘের শরণার্থী-বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহর সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বৈঠকে প্রধান আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকট। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, মানবিক কারণে বাংলাদেশ দীর্ঘ সময় ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। তবে এই সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান হলো মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা, যার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি তাদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার বিষয়েও বৈঠকে জোর দেওয়া হয়। হাই কমিশনার বারহাম সালিহ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নেওয়া মানবিক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মহলের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপরই গুরুত্ব দেন সংশ্লিষ্টরা।

শেয়ার করুন